করোনা সংক্রমণ রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। কঠোর লকডাউনের সপ্তম দিনে রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল আগের দিনগুলোর চেয়ে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সড়কে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এসময় দেখা যায় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকিয়ে দিয়ে জেরা করছে। বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা।দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, ঈদের পর দিন যত যাচ্ছে সড়কে যানবাহনের চাপ তত বেশি হচ্ছে। ব্যাংকসহ জরুরি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে।

কঠোর লকডাউনেও মানুষের মাঝে তেমন সচেতনতা দেখা যায় নি। অনেক দোকানি, ক্রেতা, পথচারী অনেকেরই মাস্ক মুখে থাকছে না। নানা ছুতোয় বের হওয়া মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তল্লাশি চৌকিতে। বের হওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, মাস্ক না পরা, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে অনেকে জরিমানা গুনেছেন। আবার অনেকে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ছাড় পাচ্ছেন।

গতকাল বুধবার ছিলো বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিন। এদিনে আরও ৫৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০৮ জনকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই গ্রেফতার ও জরিমানা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৪৮৯ গাড়ির বিপরীতে ১১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

ঈদুল আজহা ও পশুরহাটে কেনাবেচার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছিল সরকার। আট দিন বিরতির পর ২৩ জুলাই ভোর ছয়টা থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ফের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার, যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। বিধিনিষেধ চলাকালে কী করা যাবে, কী করা যাবে না তা নিয়ে গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: