ডেস্ক রিপোর্টঃ ধানক্ষেতের পাশে এক যুবকের ‘মৃতদেহ’ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে খোকসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কথিত মৃতদেহটি ধানক্ষেত থেকে তুলে ওপরে নিয়ে আসে।

তখনও মাথার ক্ষতস্থান দিয়ে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। সেখানে পোকাও ধরে গেছে। যুবকের সুরতহাল করার সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হঠাৎ চেঁচিয়ে বললেন, ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে!’

আর এ নিয়েই স্থানীয়দের মাঝে হৈচৈ পড়ে যায়। পরে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের ধুশুণ্ডু গ্রামে। তবে এখনও যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এসআই সোলাইমান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থানায় খবর আসে ধুশুণ্ডু গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পচে দুর্গন্ধ হয়ে যাওয়া একটি লাশ পড়ে আছে। পরে পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। যুবকের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশকে দিয়ে ‘মৃতদেহ’টি উল্টানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘটে যায় ব্যতিক্রমী ঘটনা। পচা দুর্গন্ধময় নিথর দেহের হঠাৎই প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। আহত যুবকের মাথার বড় বড় চুলে জটা ধরা। পরনে সাদা চেক শার্ট ও কালো ফুল প্যান্ট।

এসআই আরও জানান, আঘাতে বিকৃত হয়ে যাওয়া যুবকের মুখ ঢাকার জন্য এক শিশুর কাছ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে একটি পুরনো গামছা কেনেন তিনি। পরে গ্রাম পুলিশ ও তিনি কাঁধে করে যুবকটিকে রিকশাভ্যানে উঠিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের চিকিৎসক অনুপ কুমার সরকার জানান, পুলিশের ভর্তি করে রেখে যাওয়া যুবকের মাথায় ক্ষতস্থান পোকায় ধরে গেছে। সে এখনও অচেতন। মাথার ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করাসহ ওষুধ ও খাবার নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। হাসপাতাল সবই করতে পারবে, কিন্তু রোগীর একজন স্বজন না থাকায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার যুথী জানান, এ ধরনের কোনো সংবাদ তার কাছে নেই। তবে দরিদ্র রোগীদের জন্য ২০০ টাকার ওষুধ দেওয়ার মতো তহবিল তার কাছে আছে। তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর অভিভাবকদের আবেদন করতে হবে।

সূত্রঃ সমকাল

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: