ডেইলিকুমিল্লনিউজ ডেস্কঃ খুলনা নগরী সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া কিশোরী । মেধাবী ছাত্রী আরও বিনয়ী হিসেবেই সবাই চিনতো তাকে । পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলো । শিক্ষক সহ পরিবারের সবার চোখেই সম্ভাবনাময়ী ছিলো  সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট রবিউল ইসলামের মেয়ে শামসুন্নাহার চাঁদনী (১২)।

একই এলাকার শুভ নামের এক বখাটে নিয়মিত উত্যক্ত করতো উত্ত্যক্তের স্কুলে আসা যাওয়ার পথে। এই ঘটনার প্রতিরোধে অনেকবার বুঝিয়ে বলার পর স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বারকয়েক শাসনও করা হয়েছিলো বখাটে শুভকে।
কিন্তু কিছুতেই থামেনি উত্যক্ত করার ঘটনা। নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে অতিষ্ঠ হয়েছিলো চাদনীর পরিবারের সবাই।

অবশেষে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে উলটো বখাটে শুভর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয় চাঁদনীর বাবা। একদিকে শুভর যন্ত্রনা অন্যদিকে ‘প্রিয় বাবার’ এমন অপমান মেনে নিতে নিতে পারেনি ছোট্ট কিশোরী চাদনী।
শুক্রবার রাতে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ চাঁদনী ।
শনিবার পুলিশ চাঁদনীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদরের সন্তানকে এমন অকালে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বাবা-মা । বুকফাটা আর্তচিতকারে চাঁদনীর মা ফিরোজা বেগম জানালেন, শুভ নামের একটি বখাটে ছেলে চাঁদনীকে অনেকদিন ধরেই উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে সালিশও হয়েছে। তারপরও শুভ এ কাজ থেকে বিরত থাকেনি। সর্বশেষ গত শনিবার চাঁদনির বাবা বিষয়টি শুভর মা-বাবাকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার শুভ ও শুভর মা তাকে অপমান করেন এবং চাঁদনীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।
চাঁদনীর মায়ের দাবী, বাবাকে অপমান করার সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে।”

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, নগরীর লবণচরা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন, হরিণটানা প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে শামসুন নাহার চাঁদনী (১২) নামের মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদনীর বাবা হরিণটানা বাজারের অদূরে জায়গা কিনে বাড়ি করে কয়েক বছর ধরে পরিবারসহ বাস করছেন। তাদের প্রতিবেশী স্যানিটারি মিস্ত্রি শাহ আলমের ছেলে শুভ। সে পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে।
“শুভ চাঁদনীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত।”

ওসি বলেন, শুক্রবার বিকালে শুভ তার ৭/৮ জন সহযোগীকে নিয়ে চাঁদনীর বাসায় যায়। এ সময় চাঁদনীর বাবা রবিউলের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয় এবং বখাটে শুভ তাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে চাঁদনীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। রাতে আবার শুভ দলবলসহ তার মাকে নিয়ে চাঁদনীদের বাসায় যায়।

“এ ঘটনার পর রাতে চাঁদনী ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।”

ওসি জানান, এ ঘটনায় চাঁদনীর বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে বখাটে শুভসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানা ওসি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: