বন্ধুকে খুন করে ফোন ছিনতাই, বিক্রির টাকায় বান্ধবীসহ হোটেলে উঠেন কিশোর

বন্ধুকে হত্যা করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বান্ধবীকে নিয়ে হোটেলে উঠেন এক কিশোর। রোমহর্ষক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুরের দাড়িগাছা হাটপাড়া গ্রামে। নিহত ওই কিশোরের নাম নওফেল শেখ। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী শিশু নওফেল হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, নওফেলকে হত্যার পর ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল বিক্রির টাকায় অভিযুক্ত কিশোর গ্রেপ্তার ওই তরুণীকে নিয়ে শহরের একটি হোটেলে একান্তে সময়ও কাটিয়েছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বগুড়ার শাজাহানপুরের দাড়িগাছা হাটপাড়া গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের ছেলে নওফেল শেখ স্থানীয় ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যায়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। অভিযুক্ত কিশোর একই এলাকার হলেও সে পড়ালেখা করতো না। তবে বয়সে দুই বছরের বড় হলেও তার সঙ্গে নওফেলের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। মাঝে মাঝে তারা গ্রামের জঙ্গলে গিয়ে ধূমপান করতো।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, ‘দুই মাস আগে ইসরাফিল হোসেন জমি বিক্রির টাকা থেকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে নওফেলকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। ওই মোবাইল ফোনের দিকে প্রতিবেশী সেই কিশোরের নজর পড়ে। এক সময় সে ওই মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এজন্য ১৮ জুন নওফেলের জন্মদিনকে বেছে নেয় সে। ওইদিন সে নওফেলকে নিয়ে গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। দু’জনে ধূমপান করার পর ওই কিশোর তার কাছে থাকা মাফলার দিয়ে হঠাৎ নওফেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে নওফেলের মাথায় লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাতও করে। হত্যার পর সে নওফেলের লাশ কয়েক গজ দূরে ফেলে রেখে চলে যায়। যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ‘পরে ওই কিশোর তার পরিচিত বগুড়ার শেরপুর এলাকার কথিত বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে শহরের সপ্তপদী এলাকার দোকানে গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেই টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দিয়ে তারা দু’জন শহরের গালাপট্টি এলাকার একটি হোটেলে একান্ত সময় কাটায়।’

এরপর ওই কিশোর তার বান্ধবীকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে তারা এলাকায় ফিরে যায়। তবে ২০ জুন নওফেলের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ওই কিশোর পালিয়ে ঢাকার টঙ্গী এলাকায় ভাইয়ের কাছে চলে যায়। সেখানে সে লন্ড্রিতে কাজ করতো। নওফেল হত্যায় জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ২৭ জুন টঙ্গী থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার কথামতো নওফেলের মোবাইল বিক্রিতে সহায়তা করায় শেরপুর থেকে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

এসপি আরও জানান, গ্রেপ্তার কিশোরকে আদালতে পাঠানো হবে। আর তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্রিফিংয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরাঃ