বিয়েবাড়ি থেকে কনেকে তুলে আনতে গিয়ে স্বজনদের পিটুনিতে রাসেল শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার শ্রীপুরে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই উপজেলার বরিশাট গ্রামের আজ্জত আলীর ছেলে মঞ্জুরুল জোয়ার্দারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পেরে অন্যত্র বিয়ের আয়োজন করে। খবর পেয়ে মঞ্জুরুল কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে মেয়েটিকে তুলে আনতে তার বাড়িতে যান। মেয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় পিটুনিতে গুরুতর আহত হন মঞ্জুরুলের বন্ধু রাসেল শেখ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বুধবার সকালে মৃত্যু হয়।

বরিশাট গ্রামের জলিল শেখের ছেলে রাসেল ইজিবাইকচালক। ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে জলিল শেখ বলেন, ‘আমার ছেলের ইজিবাইক ভাড়া করে ওই বাড়িতে গিয়েছিল তার বন্ধুরা। কোনও মেয়েকে আনতে গেছে কিনা তা আমার জানা নেই। কিন্তু যারা ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’

ঘটনার বিষয়ে মেয়ের বাবা বলেন, ‌‘দীর্ঘদিন ধরে মঞ্জুরুল আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই মেয়ের গতিরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এজন্য বেশ কিছুদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। আমরা গরিব মানুষ। তাই মেয়ের অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছিলাম। এ কথা জানতে পেরে মঞ্জুরুল তার বন্ধুদের নিয়ে আমার বাড়িতে এসে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। রাতের বেলায় কে বা কারা তাদের মারধর করেছে বলতে পারব না। পরে শুনেছি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়েছে।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: