গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোমরের বেল্ট খুলে রোগীর তিন স্বজনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৮ম তলার পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সামন্তপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইলিয়াস হোসেন (২৭) সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। বড় ভাই এমদাদ হোসেন ওষুধ নিয়ে ৮১০ নম্বর পুরুষ সার্জিকেল ওই ওয়ার্ডে যান। এসময়ে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শাহ জালাল তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে তিনি জোর করে ভেতরে প্রবেশ করলে তাদের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। আনসার সদস্য রোগীর স্বজনের শার্টের কলার ধরে চড়ধাপ্পড় দিতে থাকেন। এসময়ে এমাদাদ হোসেনও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ঘুষি দিলে ক্ষুব্ধ হন নিরাপত্তাকর্মী। পরে লাঠিসোটা নিয়ে আরো বেশ কয়েকজন ওই রুমে বেদম পিটুনি দেয় স্বজনদের। তাকে রক্ষা করতে গেলে রোগীর আরো দুই স্বজনকে কোমরের বেল্ট খুলে মারপিট করতে দেখা যায়। ওই ঘটনার সময় পুরো হাসপাতালের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের আনসার কমান্ডার মো. মঞ্জুর হোসেন জানান, রোগীর স্বজনরা আনসার শাহ জামালকে মেরেছিল। বিষয়টি রাতেই মিমাংসা হয়ে গেছে। একজন আওয়ামী লীগ নেতা মিমাংসা করে দিয়েছেন। রোগীর স্বজনরা ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।

এমদাদ হোসেনের বাবা মোহাম্মদ আলী জানান, হামলায় আহতরা শয্যাশায়ী। সবার জ্বর উঠেছে। ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারছেন না। তাই বাড়িতে চিকিৎসা চলছে। কি মিমাংসা করা হয়েছে জানেন না। হামলার কথা বাইরে জানানো হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. তপন কান্তি সরকার জানান, আনসার ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি উভয় পক্ষ মিমাংসা করে নিয়েছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: