পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রী-শাশুড়িকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে আহত করার অভিযোগ উঠে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ভাটামাথা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ওই স্ত্রী-শাশুড়িকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ভাটামাথা গ্রামের কালিপদ পালের স্ত্রী পুতুল রাণী পাল (৫০) ও তার মেয়ে চন্দনা পাল (৩০)।

হাসপাতালে নিয়ে আসা আহত পুতুল রানী পালের বড় মেয়ের জামাতা অজিত পাল জানান, পুতুল পাল আমার শাশুড়ি ও চন্দনা পাল আমার শ্যালিকা হন। গত প্রায় ১০ বছর আগে আমার শ্যালিকা চন্দনা পালকে ঢাকার তাঁতী বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই পালের ছেলে আনন্দ পালের কাছে বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবারে নয় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আনন্দ পাল জুয়াড়ি প্রকৃতির লোক ছিল। এনিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।

অজিত পাল বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে আনন্দ পাল জুয়া খেলে অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে যায়। এ নিয়ে চন্দনা পাল ও আনন্দ পালের মধ্যে কলহ চরম আকার ধারণ করে। পরে চন্দনাকে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসি। প্রায় এক বছর ধরে আমার শ্যালিকা চন্দনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ভাটামাথা গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। ইদানীং স্বামী আনন্দ পাল ফোনে ঢাকায় চলে যাওয়ার জন্য চন্দনাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

তিনি বলেন, শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে আনন্দ পাল ভাটামাথা গ্রামে চন্দনাদের বাড়িতে ব্যাগে কাপড় নিয়ে বেড়াতে আসেন। আসার পর চন্দনাকে ঢাকায় ফিরে যেতে চাপ দেয়। তখন চন্দনা জানায়, আনন্দ পাল ঋণ শেষ করার পর সে শ্বশুর বাড়ি ফিরে যাবে। এ নিয়ে আনন্দ পাল মারধোর করে চন্দনাকে, পরে তার কাপড়ের ব্যাগ থেকে বোতল দিয়ে আনা অ্যাসিড নিক্ষেপ করে চন্দনার ওপর। এ সময় চন্দনা চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার মা পুতুল পাল আসলে, তার উপরও মেয়ের জামাই আনন্দ পাল অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত পুতুল রানীর বড় মেয়ে তাপসি পাল বলেন, আমার মা এবং ছোট বোনের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমি অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক বলেন, আমরা মা-মেয়েকে অ্যাসিড দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পেয়েছি। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিডে দগ্ধ হয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চলবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ‘অ্যাসিড নিক্ষেপের খবর পেয়ে হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: