ভাড়া না পেয়ে শিশু সন্তানসহ ভাড়াটিয়াকে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। ওই অবস্থায় বালতির পানিতে ডুবে ছটফট করতে করতে শিশুটির মৃত্যু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। শিশুর মৃত্যু হলে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) খুলনার হরিণটানায় এই ঘটনা ঘটে।

মৃত আজিজা তাসমিয়া ওই এলাকার ইমদাদুল ইসলাম ও তামান্না ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় বুধবার বাড়িওয়ালা মো. নওশেরকে দায়ী করে থানায় অভিযোগ দেন শিশুটির বাবা-মা। পুলিশ সে অভিযোগ গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলা করেছে। পরে আদালতে যান ইমদাদুল-তামান্না দম্পতি। তামান্না ইসলাম জানান, ১১ জানুয়ারি দুপুরে তালাবদ্ধ ঘরে তার মেয়েটি খেলতে গিয়ে হঠাৎ বালতির পানিতে পড়ে যায়। ঘরে এসে তিনি মেয়েটিকে ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেও বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ থাকায় চিকিৎসকের কাছে নিতে পারেননি।

জানা গেছে, ২০২০ সালে ডিসেম্বরে কাঠের ডিজাইন মিস্ত্রি ইমদাদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তামান্না মাসিক চার হাজার টাকা চুক্তিতে রিয়াবাজার এলাকায় একতলা বাড়ির দুইটি কক্ষ ভাড়া নেন। কিন্তু জানুয়ারি মাসের অগ্রিম ভাড়া দিতে না পারায় ৬ জানুয়ারি থেকে ঘরে শিশু সন্তানসহ তামান্নাকে তালাবদ্ধ করে রাখে বাড়িওয়ালা নওশের। ওই সময় তার স্বামী মোংলা ঝিউধরা এলাকায় কাজ করছিলেন।

তামান্নার স্বামী ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আমি নিম্ন আয়ের মানুষ। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও সন্তানকে জীবন দিয়ে ভালোবাসতাম। কিন্তু বাড়িওয়ালার নিমর্মতায় আজ সেই সন্তানকে হারাতে হলো।

স্থানীয় জলমা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শহিদুল ইসলাম লিটন জানান, শিশুটির মা জানালা দিয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে ছটফট করতে করতে শিশুটি মারা যায়।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমীর কুমার সরদার বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে এটা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম জানান, অসহায় বাবা-মা থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: