প্রায় ৫ মাস আগে সংঘঠিত হওয়া বগুড়া সদর থানার ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ মোস্তফাকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি মোঃ মোস্তফা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুরের মৃত সাহাবুল্ল্যাহ ওরফে সাবুল্লাহ ছেলে। আর মৃত মৃত শমসের আলী (৫২) একই উপজেলার ছাতুনামার মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে।

আসামি মোঃ মোস্তফা ও মৃত শমসের আলী দীর্ঘ দিন যাবৎ এক সঙ্গে বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে দিন মুজুরের কাজ করত।

পিবিআই থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পিবিআই বলছে, গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছিল শমসের আলী নামেও ওই ব্যক্তির। পরে তার মরদেহ বেঁধে করতোয়া নদীর তীরে ফেলে যায় শমসেরের বন্ধু মো. মোস্তফা।

বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই আরও জানায়, মোস্তফা ও শমসের বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা ঘুরে ধানের জমিতে কাজ করতেন। তাদের দুজনের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। গত জুনে মাটিডালির একটি স-মিলে আরও ৭ থেকে ৮ জনের সঙ্গে থাকা শুরু করেন। দিনের বেলায় কৃষিজমিতে কাজ করতেন। পরে রাতে স-মিলে ঘুমাতেন।

এদিকে গত ২৮ জুন শমসের ও মোস্তফা কাজ শেষে স-মিলে ফিরছিলেন। পথে মম ইন পার্কের পেছনে করতোয়া নদীর ধারে তাদের দেখা হয়। গল্পের এক পর্যায়ে ঠাট্টার ছলে শমসেরের গোপনাঙ্গে লাথি মারেন মোস্তফা। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান শমসের। পরে আতঙ্কে শমসেরের মরদেহ বেঁধে নদীর তীরে ফেলে পালিয়ে যান মোস্তফা। পরদিন স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে সংবাদ দেয়।

এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হলেও পিবিআই মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ঘটনার ৩দিন পরে আসামী মোস্তফা বগুড়া থেকে নিজ বাড়ীতে গিয়ে শমসেরের দাফনে অংশ গ্রহণ করে। অতঃপর বিধি মোতাবেক গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হলে গ্রেফতারকৃত আসামী মোস্তফা বিজ্ঞ আদালতে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন এর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা থেকে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: