ডেস্ক রিপোর্টঃ এমন অনেকে আছেন যাদের চোখ দেখতে কিছুটা ধূসর। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের তেমনই একজন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান রুম্মন। সাব্বিরের চোখ ধূসর হওয়ায় ১০ থেকে ১২ বছরের এক কিশোর ‘ম্যাও’ বলে ডাকেন। আর এই সামান্য অপরাধে কিশোরটিকে মাঠের সাইট স্ক্রিনের পাশে নিয়ে দুহাতে চড় থাপ্পড় দিয়েছেন সাব্বির।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের খেলায়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহী এবং ঢাকা মেট্টোর মধ্যকার খেলায় ঘটনাটি ঘটে। সাব্বিরদের রাজশাহী তখন ফিল্ডিংয়ে ছিল। সাব্বির ফিল্ডিং করার সময়ে এক কিশোর গ্যালারি থেকে ‘ম্যাও’ বলে হাঁক দিলেন। তাতেই ক্ষেপে গেলেন সাব্বির। আর এই অপরাধে পরিচিত একজনকে দিয়ে ছেলেটিকে ধরে নিয়ে চড় থাপ্পড় মেরেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডের খেলার দ্বিতীয় দিনে ঘটনাটি ঘটে। যেই ঘটনারি ভিডিও কেউ একজন ধারণ করেছেন। সেই ঘটনার দিনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির দূর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) এক সদস্য।

রাজশাহী-ঢাকামেট্টোর মধ্যকার সেই ম্যাচের ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন গাজী সোহেল এবং তানভির আহমেদ। আর ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন শওকাতুর রহমান।

বিসিবির সেই সূত্রটি আরো জানায়, ফিল্ড আম্পায়ারদের কাছ থেকে এক ওভার পরে খেলতে নামবো বলে ছুটি নিয়ে সাব্বির স্টেডিয়ামের সাইট স্ক্রিনের পেছনে চলে যান। সেখানে গিয়ে ছেলেটিকে দুই হাতে কসায়ে একাধিক থাপ্পড় মারেন।

সূত্র বলছে, অপরাধের কারণে খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি সাব্বিরকে ডাকলেও তিনি সেখানে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা আগে গিয়ে হইচই শুরু করে দেন এবং বলতে থাকেন আমার এখন কাজ আছে। আপনারা আমায় কেন ডেকেছেন। যা বলার বলেন, না হয় চলে যাব।

সূত্রটি আরো জানায়, ম্যাচ রেফারি (শওকাতুর রহমান) সাব্বিরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ঘটনা কি হয়েছে। উত্তরে সাব্বির বলেছেন, মাঠের বাইরে যা হয়েছে সে বিষয়ে আপনারা কেনো এখানে নাক গলাচ্ছেন? শুধু তাই নয়; ম্যাচ রেফারির সঙ্গেও বাজে ব্যবহার করেন সাব্বির। একই সাথে তাদের দেখে নেয়ারও হুমকি দেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। তথ্য সূত্র: যুগান্তর

ম্যাচ রেফারি বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখন বিসিবি নির্ধারণ করবে এই অপরাধে সাব্বিরের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ।

এ বিষয়ে আকরাম খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট থেকে জেনেছি। এ ধরনের আচরণ জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটারের কাছ থেকে কাম্য নয়। এমন ঘটনা বিসিবিকে বিব্রত করে। আপনারা জানেন যে এমন কোনো ঘটনাতে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটারকেই ছাড় দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে ম্যাচ রেফারি একটি হেয়ারিং করেছেন। আমরা বিষয়টি দ্রুত বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে পাঠাচ্ছি। কি ধরনের শাস্তি হবে সেটি কমিটিই সিদ্ধান্ত নিবে। ক্রিকেটে সুনাম নষ্ট হলে আমরা কাউকেই ছাড় দিবো না। তবে যারা জাতীয় দল প্রতিনিধিত্ব করে তাদেরতো বুঝতে হবে যে কি করতে হয় আর কি করতে হয় না।!’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে সাব্বির রহমানের। এর আগেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছে সাব্বিরকে। আবারও জরিমানা দিতে হতে পারে জাতীয় দলের এই নিয়মিত ক্রিকেটারকে।

উল্লেখ্য, বিপিএলে চতুর্থ আসরে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাতে সাব্বির রহমান মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনেছেন। তার সেই সময় জরিমানার পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ টাকা। এবার বিপিএলের পঞ্চম আসরেও সিলেটে মাঠে আম্পায়ারদের গালি দিয়ে তিনি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা দেন। বারবার এমন ঘটনাতে বিসিবিসহ দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেই দাবি ক্রিকেট বোদ্ধাদের।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: