আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা মুন্নী। তবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় মুন্নীকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিল করেন মুন্নী। মুন্নীর করা আপিলের পর দণ্ড ও সাজা স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তার আর কোনও বাধা রইল না।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত আদেশে বলেছেন, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড বা সাজা (সেন্টেন্স অ্যান্ড কনভিকশন) চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

এদিকে, হাইকোর্টে মুন্নীর এ রায়কে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে সরকার।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, ‘হাইকোর্টের এই আদেশ ‘সংবিধান পরিপন্থি’। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, আদালত বন্ধ থাকার পরেও শনিবার চেম্বার জজ আদালতে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্যে দিন নির্ধারিত থাকার কারণে তারা আর দেরি করতে চান না।

ইতোমধ্যে মুন্নীর দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় চেম্বার আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ আমরা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি। আবেদনটি সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার আদালতে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে শনিবার। ওই দিন সকাল ১০টায় আমাদের আবেদনের ওপর শুনানি হবে।’

অন্যদিকে, সাবিরা সুলতানার বিষয়ে হাইকোর্টের ওই রায়ের পরই বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলেও দলটির নেতাকর্মীরা আশা করছেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সেই প্রত্যাশা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাকে ৫টি আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

কারণ এই রায়টি নতুন উপায় দেখাতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি।

তবে ওই এ রায় ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে সরকার বুঝাই যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মুন্নীর দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিংবা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এমনকি মুক্তিলাভের পরেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: