শখ পূরণে ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন বাবা, কেড়ে নিল প্রাণ!

বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে ঠিক মতো পড়াশুনা করলে ভালো ডাক্তার বানাবেন, সেই ইচ্ছা থেকে এক মাত্র ছেলেকে ধলাপাড়া এস.ইউ.পি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার জন্য ছেলে আবু বক্কর কে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন বাবা শাহজালাল। এবার সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলের ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা কোন কিছু চাওয়ার আগে দিয়ে দিতেন। গত বছর একটি মোটরসাইকেল চেয়েছিলেন ছেলে আবু বক্কর তাই বাবা টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। এক নির্মম দূর্ঘটনা কেড়ে নিলো একমাত্র সন্তানকে। আজ সকালে সেই মোটরসাইকেলই দুর্ঘটনায় মারা গেলো ছেলে আবু বক্কর। বাবার স্বপ্ন পূরন হলো না, অপূরণীয় হয়ে রইলো স্বপ্ন। একমাত্র ছেলে সকালে স্কুলে গিয়েছিলো বন্ধুদের সাথে টিফিনের সময় মোটরসাইকেল নিয়ে স্কুলের বাহিরে বেড়াতে বের হোন পাশের বাড়ির ও একই ক্লাসের বন্ধু সায়েম ও শরীফের সাথে। পথিমধ্যে ঘাটাইল ধলাপাড়া সড়কের চেয়ারম্যান বাড়ী মোড়ে বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সাথে ধাক্কা খায় মোটরসাইকেল। দুমরে-মুচরে যায় মোটরসাইকেল। ঘটনাস্থলেই মারা যায় আবু বক্করসহ সাথে থাকা বন্ধু সায়েম ও শরীফ।

আশেপাশে থাকা লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন। সাথে থাকা মৃত রমজান আলীর ছেলে সায়েম। পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে সায়েম ছোট বাবা মারা গেছেন ৫ বছর আগে এক মাত্র বড় ভাই ও মা ছিলো তার সব কিছু। সায়েমের বিদেশ যাওয়ার জন্য সকল প্রকার কাগজ জমা দিয়েছেন মা। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। অপরজন মৃত সমীর উদ্দীনের ছেলে শরীফ। শরীফের বাবা মারা গেছে এক বছর আগে ও মা মারা গেছে ২ বছর আগে বড় ভাই প্রবাস থেকে তার পড়াশুনার খরচ বহন করেন। তিনি থাকেন চাচার বাড়িতে। শরীফের দুই বোন তাদের বিয়ে হয়েছে তাই তাদের সাথে যোগাযোগ নাই বললেই চলে। মা বাবা ছাড়া চাচার সংসারে শরীফ বড় হচ্ছিলো। বড় হয়ে পুলিশে চাকুরী করবে শরীফ সেই স্বপ্ন দেখতো চাচা। কিন্তু মোটরসাইকেল দূর্ঘটনা কেড়ে নিলো শরীফকে।

সায়েমের মা বলেন, ছেলেকে বিদেশ পাঠাবো সেই জন্যে সব কাগজ পত্র জমা দিয়েছি। বিদেশ পাঠানোর জন্য গাড়ি চালানো শিখিয়েছি ছেলেকে কিন্তু সেই বিদেশ যাওয়া আর হলোনা । স্কুলে গেলো পড়তে বাড়িতে আসলো লাশ হয়ে। শরীফের চাচা জানান,শরীফের বাবা মা দুজনেই মারা যাওয়ার পর শরীফ আমার কাছেই লালন পালন হচ্ছে। শরীফ আমার ছেলের মতনি থাকতো। সকালে স্কুলে গেছে ওর চাচীর কাছে বলে সেই স্কুল থেকে আর বাড়িতে আসা হলোনাহ শরীফের। বাড়িতে আসলো লাশ হয়ে আমার বাতিজা। আবু বক্করের মা বলেন,ছেলেকে কখনো কোন কিছুর অভাবে রাখিনি তাই হোন্ডা কিনে দিছিলাম। সেই হোন্ডা আমার এক মাত্র সোনার ছেলেকে কেড়ে নিলো। আর মা ডাক শুনতে পারবো না আমি।

ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এজাহারুল ইসলাম ভূঁইয়া মিঠু বলেন, ওই তিন শিক্ষার্থী একটি আরটিআর মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছিল। তাদের মোটরসাইকেলটি অভার স্পীডের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছে। এসময় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুছড়ে গেছে। পরে নিহতদের স্বজনরা এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছে। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিবার ময়নাতদন্তের জন্য আপত্তি করেছে তাই তাদের পরিবার লাশ তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালানোর জন্যই এ দূর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছি।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ