শিক্ষকের বেধড়ক পিটুনীতে আইসিইউতে দুই ছাত্রী

রূপগঞ্জে জসিম উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তানজিলা আক্তার (১৪) ও নিশি চৌধুরী (১৪) নামে সপ্তম শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শ্রেনিকক্ষে চুমকি নিয়ে খেলা করায় তিনি ওই দুই ছাত্রীকে বেধড়ক পিটুনী দেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে দুই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শনিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা এলাকার হাজ্বী নুর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থী তানজিলার মা মিনু বেগম ও নিশীর মা বিউটি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা এলাকার হাজী নুরুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম মাষ্টার একজন উগ্র প্রকৃতির মানুষ। তিনি প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের বেধরক মারধর করে থাকেন। আগামী দুই একদিনের মধ্যেই স্কুল ঈদের জন্য বন্ধ দিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খুশিতে শনিবার দুপুরে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা ও নিশিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী চুমকি দিয়ে খেলা করছিল। চুমকি নিয়ে খেলার বিষয়টি শিক্ষক জসিম উদ্দিন দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তানজিলা ও নিশী আক্তারকে অফিস কক্ষে ডেকে পাঠান। এসময় জসিম উদ্দিন বেত দিয়ে দুইজনকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।

জসিম উদ্দিন দুই শিক্ষার্থীকে লাথি ও চুলের মুঠি ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালান। পরে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে জসিম উদ্দিন তাদের অভিভাবকদের না জানিয়ে তাদেরকে স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। দুই শিক্ষার্থীর শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে জসিম উদ্দিন অভিভাবকদের খবর দেন। অভিভাবকরা হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে নির্মম ঘটনার বিবরণ শুনতে পারেন। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তানজিলা ও নিশির অবস্থার আরো অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিউতে নেওয়া হয় তাদের। বর্তমানে তারা আইসিউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

জসিম মাষ্টার শিক্ষক নামের কলঙ্ক দাবি করে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জসিম মাষ্টারের কঠিন বিচার দাবি করেন। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী নিশি ও তানজিলা আক্তারের পরিবার থেকে অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী ও স্কুলের অন্যান্য অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ কারণে সে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছে। উপর মহলের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারণে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রাস্তায় নেমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আটকে আন্দোলন করবেন বলে হুশিয়ারি দেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনাটি আমার জানা নেই। যেহেতু ঘটনার কথা জানলাম খোঁজ-খবর নিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরাঃ