ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সিনিয়র নেতা ও সাবেক সভাপতি, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দিল্লির এইমস হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সুষমা স্বরাজের জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে।

সুষমা স্বরাজের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সুষমার মৃত্যুতে শোকাহত রাহুল গান্ধীও। টুইটারে শোকপ্রকাশ করেছেন রাগা।

এর আগে সুষমার অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।

সুষমা স্বরাজের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা লিখেছেন, ‘গভীরভাবে শোকাহত। আমি ওকে ১৯৯০ সাল থেকে চিনি। অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। খুব ভাল মানুষ ছিলেন’।

প্রথম মোদী সরকারে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছিলেন সুষমা। বাজপেয়ী জমানেতেও মন্ত্রীত্ব সামলেছিলেন এই বিজেপি নেত্রী। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আইনজীবীও ছিলেন তিনি।

২৬ মে ২০১৪ সাল থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন সুষমা স্বরাজ। ইন্দিরা গান্ধীর পর তিনি দ্বিতীয় নারী হিসাবে এই দফতরের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি সংসদ সদস্য (লোকসভা) হিসাবে সাতবার এবং আইন পরিষদের (বিধানসভা) সদস্য হিসাবে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে ২৫ বছর বয়সে, তিনি উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যর মন্ত্রীসভার সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর ১৯৯৮ সাল থেকে ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লীর ৫ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতার জন্য দ্বিতীয় মোদী সরকারে মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যাহতি নেন সুষমা। এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি সুষমা। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে মৃত্যু ৩ ঘণ্টা আগেও শেষ টুইটার পোস্টে কাশ্মীরে ৩৭০ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন স্বরাজ। এই দিনের জন্য সারা জীবন তিনি অপেক্ষা করেছিলেন বলে ওই পোস্টে জানান সুষমা।

তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

১৯৭০-এর দশকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু সুষমার। স্বামী স্বরাজ কৌশাল ছিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা জর্জ ফারনান্দেজের খুব কাছের মানুষ। ১৯৭৫ সালে জর্জ ফারনান্দেজের আইনি প্রতিরক্ষা দলের একটি অংশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন সুষমা। জয় প্রকাশ নারায়নের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

জরুরি অবস্থার পর, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত হরিয়ানা বিধানসভার সদস্য ছিলেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে আম্বালা সেনানিবাস বিধানসভা আসন অর্জন করেন। ১৯৭৭ এর জুলাইয়ে জনতা পার্টি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: