শরীয়তপুরে স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) শরীয়তপুরের পালং আমলি আদালতের বিচারক মো. নেজবাউল এই আদেশ দেন। গত ১০ নভেম্বর শরীয়তপুরের পালং আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্ত্রী মাধবী সরকারসহ তিন জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন স্বামী নয়ন দাস। মামলার তিন আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। আদালতের ধার্য করা তারিখে মামলার দুই আসামি হাজির হন এবং তাঁদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু ১ নম্বর আসামি মাধবী সরকার হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জুলাই মাসে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়ারী ইউনিয়নের বিশ্বজিৎ সরকারের মেয়ে মাধবী সরকারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার কাশাভোগ গ্রামের নয়ন দাসের বিয়ে হয়। বিয়ের সাড়ে চার মাস পর থেকে স্বামী নয়নকে যশোর অথবা গোপালগঞ্জ শহরে বাড়ি করে দিতে চাপ দিতে থাকেন স্ত্রীর পরিবারের লোকজন। তবে স্ত্রীর নামে বাড়ি করে দিতে না পাড়ায় স্বামীর বাড়ি থেকে সুকৌশলে মেয়ে নিয়ে চলে যান তাঁর মা-বাবা। তবে যৌতুক ছাড়া সংসারে ফেরাতে গত এক বছর ধরে স্ত্রীসহ তাঁর পরিবারকে অনুরোধ করে আসছিলেন স্বামীর পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও স্বামীর সংসারে আসেননি স্ত্রী মাধবী সরকার। এরপর গত ১০ নভেম্বর শরীয়তপুরের পালং আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ধারা মতে নালিশি মামলা দায়ের করেন স্বামী নয়ন দাস। মামলায় স্ত্রী মাধবী সরকার, তার মা অর্চনা সরকার এবং বাবা বিশ্বজিৎ সরকারকে আসামি করা হয়। গতকাল বুধবার সবাইকে স্বশরীরে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত। তবে ধার্য তারিখে ২ ও ৩ নম্বর আসামি হাজির হলেও ১ নম্বর আসামি ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাধবী সরকার হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার বাদী নয়ন দাস বলেন, ‘ভালোবেসে বিয়ে করেও যৌতুক দিতে না পারায় গত এক বছর ধরে স্ত্রীর পরিবারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। মীমাংসার জন্য ওদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বসা হলেও স্ত্রীর পরিবার গ্রাম্য আদালতের আদেশ মানেননি। অবশেষে যৌতুক ছাড়া সংসারে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে কোনো প্রকার মীমাংসা না করতে পেরে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন, ভালোবেসে বিয়ের সাড়ে চার মাস পর থেকে স্বামী নয়ন দাসকে বাড়ি করে দিতে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন স্ত্রীসহ তাঁর মা-বাবা। কিন্তু স্বামীর পরিবার তাঁদের দাবি মেটাতে না পারায় গত কয়েক মাস ধরে স্বামীর সংসার করবেন না বলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন স্ত্রী মাধবী সরকার ও তাঁর পরিবার। অবশেষে একাধিকবার মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে স্বামী নয়ন দাস যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন। বুধবার ধার্য তারিখে দুই আসামি হাজির হলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে মামলার ১ নম্বর আসামি ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাধবী সরকার হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: