৯৯৯ এ কল দিয়ে রাতের আধাঁরে কাপ্তাই হ্রদে আটকে থাকা ৮ পর্যটককে আলো দেখালো রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ নামে একটি পেইজের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্যে ভরা এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। এ জেলায় রয়েছে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। সারাদেশ থেকে প্রতিদিনই পর্যটকের আনাগোনা থাকে এ জেলায়।

প্রকৃতির শীতল হাওয়ায় মনকে সতেজ করার জন্য মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে এস.এম. রিয়াদ জিলানী সহ ৮ জনের একটি পর্যটক দল রাঙ্গামাটি জেলায় ভ্রমণে আসে। এসেই একটি ইঞ্জিন চালিত বোট ভাড়া করে রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম শুভলং ঝর্ণা দিকে রওনা দেন এ দলটি। পরে পর্যটক দলটি শুভলং ঝর্ণার সৌন্দর্য্যে উপভোগ করে রাঙ্গামাটি শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলে কাপ্তাই হ্রদের সুবিশাল কচুরিপানার একটি ঝাঁকে পর্যটকদের বোট আটকে যায়। পরে পর্যটক ও বোট চালক অনেক চেষ্টা করেও আটকে থাকা বোটকে সরাতে পারেনি। বোট চালকের প্রাণপণ চেষ্টার একপর্যায়ে বোটের পাখা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর, বোটচালক ও আটকে পড়া পর্যটকরা নিজেদের উদ্ধারে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে।

এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে দেখে পর্যটকদের মনে ভয় জাগতে শুরু করে। পরে কোন উপায় না পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দেয় তাদেরই একজন পর্যটক। ৯৯৯ থেকে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম কল পেয়ে পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন নির্দেশনায় ঘটনাস্থলের কাছে কোতয়ালী থানাধীন জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে খবর পৌঁছায় পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং পর্যটকদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নির্দেশনা পেয়ে জারুলছড়ি ক্যাম্পের চৌকস পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে।

পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের মায়া তুচ্ছজ্ঞান করে কাপ্তাই লেকে সাঁতার কেটে কচুরিপানার ঝাঁকের কাছে পৌঁছায়। কচুরিপানার কাছাকাছি গিয়ে দা, শাবাল দিয়ে কচুরিপানা কাটতে কাটতে সামনের দিকে এগুতে থাকে। দীর্ঘ ০১ ঘন্টা কচুরিপানা পরিষ্কার করে পর্যটকদলের কাছে পৌঁছে পুলিশ সদস্যরা। পর্যটকদের উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যরা নিজেদের খাওয়ার বিস্কুট, পানি প্রভৃতি দিয়ে পর্যটকদের ক্ষুধা নিবারণ করে। জারুলছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের এ সহমর্মিতা দেখে পর্যটকরা আপ্লুত হয়ে পড়ে।

পর্যটকরা জানান, এতদিন পুলিশ সম্পর্কে মানুষের কাছে নেতিবাচক কথা শুনে এসেছে, বাস্তবে এসে আজকে আসল পুলিশ সদস্যকে দেখেছে। এতদিন ধরে যে ধারণা ছিল তাদের কাছে এটা আজকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারা আরো জানান, “চারদিকে যখন ঘোর অন্ধকার দেখতে ছিলাম তখনই আলোর পথ দেখিয়ে নিজেদের নতুন জীবন দান করলো বাংলাদেশ পুলিশ । তাই বাংলাদেশ পুলিশ তথা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: