কুমিল্লায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা আরো সাত চিকিৎসককে দ্রুত মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় সে সময় তিনি সেখানকার চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও সার্বিক পরিবেশের খোঁজ-খবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুই অসহায় রোগীকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

অভিযুক্ত ৫ চিকিৎসক হলেন—ডা. তুহিবুর রহমান (২২ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে), ডা. সমরজিৎ সাহা (২৯ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে), ডা. ফারহান ইমতিয়াজ (২৭ এপ্রিল ২০২৩ থেকে), ডা. যোবায়ের ইবনে সামস (২৩ নভেম্বর ২০২৩ থেকে) ও ডা. সুচেতা ভট্টাচার্য (৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে)।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

এ সময় ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জনের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন তিনি। এদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিষয়টি জানার পর অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে ফিরিয়ে আনার জন্য তাগিদ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালিসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকেও মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক দেওয়া হবে।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

হাসপাতালের অকেজো যানবাহনগুলো দ্রুত নিলাম বা কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের আশ্বাস দেন।

​পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। মুরাদনগর হাসপাতালের সেবার মান আগের চেয়ে ভালো হলেও কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে। সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।’

​এ সময় চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে মুরাদনগরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরো পড়ুন