লন্ডন থেকে গড়ে উঠেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে তারেক রহমানের সংবাদ প্রচার থেকে বিরত রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশি মিডিয়াতেও সেই চাপের প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের তথ্যপ্রযুক্তি টিমের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। তারেক রহমানের সরাসরি পরামর্শে এর নামকরণ করা হয় ‘ইউএনএন টিভি’, আর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়: ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথা বলে’। এই প্রযুক্তি টিমের প্রধান ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হাসান।
২০১৪ সালে তারেক রহমানের পরামর্শে তার তথ্যপ্রযুক্তি টিম নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপের তৈরা করা হয়। তখনও ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো লাইভ স্ট্রিমিং সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছেনি। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ‘ইউএনএন অ্যাপ’ চালু করে লন্ডন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পথ তৈরি করা হয়। এটি ছিল শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতালিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের চুক্তি করে, লন্ডন থেকেই অনলাইন টিভির প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ তৈরি করা হয়–যা ছিল যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৪ সালের আগে কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল অ্যাপল অ্যাপস্টোরে ডাউনলোডের সুযোগ পায়নি। প্রথম দিকে শুধূ মাত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখার সুযোগ হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে প্রচার করে হয়।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংবাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিপ্লব এনেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হাসান। তিনি কেবল একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞই ছিলেন না, বরং একাধারে সাংবাদিক, সম্প্রচারকারী এবং ডিজিটাল কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেন। তার নেতৃত্বে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা তারেক রহমানের মিডিয়া উপস্থিতি একটি পেশাদার ও নিয়মিত রূপ লাভ করে।
২০১৫ সালে দেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজীব হাসান , আবদুর রহমান সানি এবং ইটিভির টেকনিক্যাল টিমের সাথে আলোচনা করা হয় । এরপরের দিন লন্ডনের আট্রিয়াম হল থেকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে , তারেক রহমানের সমাবেশের বক্তব্য অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে একুশে টেলিভিশনে (ETV) সম্প্রচারিত করা হয়েছিল। এটি আওয়ামী সরকারের চোখে কাঁটার মতো ছিল, ফলে বাংলাদেশে একুশে টেলিভিশন হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এই বাধা-বিপত্তি তাকে থামাতে পারেনি, বরং বিএনপির কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তারেক রহমানের এই ডিজিটাল কৌশল কেবল দলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করেনি, প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যেও নতুন রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। তিনি অদৃশ্য এক সেতুবন্ধ তৈরি করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে ঐক্যের স্রোত বইয়ে দেয়।
প্রথমদিকে পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে একটি অফিস থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া হাবে পরিণত হয়, যেখান থেকে নিউজরুম, রেকর্ডিং স্টুডিও ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হতো।
এই লন্ডনভিত্তিক মিডিয়া সেন্টার থেকে রাজীব হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ইউএনএন (UNN) তখন অন্যতম মাধ্যম ছিল, যা লন্ডনের স্ট্রিট শো, বিক্ষোভ, গণ-আন্দোলন এবং তারেক রহমানের নিয়মিত কর্মসূচির সরাসরি সম্প্রচার নিশ্চিত করত। শুধু লাইভ স্ট্রিমিং নয়, প্রতিদিনের সংবাদ, বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক আলোচনা ভিত্তিক লাইভ টক শোও প্রচারিত হতো। ফলে লন্ডন থেকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন জেলায় বার্তা পৌঁছে দেয়ার একটি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর চ্যানেল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। এছাড়া সংবাদ বিভাগে বেশ অনেকজন সংবাদের সম্পাদকীয় দিকনির্দেশনা দিতেন।
রাজীব হাসান এভাবেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে অনলাইন লাইভ সম্প্রচার ও ডিজিটাল নিউজ নেটওয়ার্কের ভিত্তি গড়ে দেন, যা পরবর্তীতে বহু প্ল্যাটফর্মের জন্য রোডম্যাপ হয়ে থাকে।
২০১৬ সালে মধ্যভাগে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো কোম্পানী গুলো লাইভ স্ট্রিমিং চালু করতে থাকে। শুরুতে লাইভ অনুষ্টান দীর্ঘ সময়ে প্রচারের সুযোগ ছিলো না ।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com