মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা গোমতী নদীর পাড়ে বসে লিখেছেন,
আজো মধুর বাঁশরি বাজে
বাজে – মধুর বাঁশরি বাজে
গোধুলী লগনে বুকের মাঝে।
মধুর বাঁশরি বাজে
বাজে – মধুর বাঁশরি বাজে
আজো মনে হয় সহসা কখন
জলে ভরা দু’টি ডাগর নয়ন ।
ক্ষণিকের ভুলে সেই চাঁপা ফুলে
ফেলে ছুটে যাওয়া লাজে
আজো মধুর বাঁশরি বাজে
বাজে – মধুর বাঁশরি বাজে
গোমতী পাড়ে কাজী নজরুলের লেখা চাপাঁ ফুলের ঘ্রাণ না থাকলেও গোমতীর পাড়ে সূর্যমূখী ফুলের ঘ্রাণে চারদিক মৌ মৌ করছে। গোমতীর পাড়ে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন চার বন্ধু। বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষ না করে শখের বশে প্রথম এই উদ্যোগ নিয়ে সফলতা পেয়ে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করার চিন্তা করছেন তারা। এদিকে সূর্যমুখী দেখতে আসা দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন তারা। দর্শনার্থীরা গোমতী নদীর পাড় পালপাড়া এলাকায় গিয়ে ফুলে সঙ্গে ছবি তোলেন ও সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
কৃষি পণ্য উৎপাদনে কুমিল্লা অন্যান্য জেলা থেকে এগিয়ে। কুমিল্লার গোমতী নদীর পাড়ে সারা বছরই চাষ করা হয় বিভিন্ন ফসল। তবে এবার চার বন্ধু মিলে ব্যতিক্রম কিছু চিন্তা করেছেন। সাব্বির নামে এক যুবক তার তিন বন্ধু মিলে ভুট্টার জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না করলেও সফলতা পেয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার ইচ্ছা পোষণ করেন তারা।
সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাগান পরিদর্শনে আগত দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট বসিয়েছেন তারা। প্রতিজন দর্শনার্থীর জন্য বাগানে ছবি তুলতে হলে গুনতে হবে ৩০ টাকা। আর ফুল ছিঁড়লে জরিমানা ৫০০ টাকা।
পালপাড়া এলাকার এই বাগানে বিকেল হলেই দেখা মিলে দর্শনার্থীদের। প্রায় সব বয়সের মানুষ ঘুরতে আসে এই বাগানে। কেউ সময় কাটাচ্ছেন প্রিয়জনের সাথে, আবার কেউ ছবি তুলছেন। সুন্দর এই বাগানটিতে ঘুরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।
সূর্যমুখী বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আয়োশা আক্তার জানান, শহরের কোলাহল থেকে গোমতী নদীর পাড়ে কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের বাগানে এসে অনেক ভালো লাগছে, তাই পরিবার নিয়ে আসছি। আমরা সূর্যমুখী ফুলের সাথে ছবি তুলেছি।
নগরীর কাটাবিল থেকে আসা রায়হান বিন এমদাদ সামির জানান, আমরা এখানে ঘুরতে এসে ছবি তুলেছি, অনেক ভালো লাগছে সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত বছর জেলার ১৭টি উপজেলায় প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছিল। চলতি বছর তা কিছুটা কমে ৬ হেক্টরে দাঁড়ালেও দাউদকান্দি, চান্দিনা ও কুমিল্লা সদর উপজেলায় নতুন করে কৃষকদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তার মতে, সরিষা কাটার পর দ্রুত ধান চাষ করা গেলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় অনেক কৃষক সময়ের হিসাব মিলাতে পারেন না। তবুও যারা সাহস করে এই ফসল করছেন, তারা লাভের মুখ দেখছে। কৃষি অধিদফতর থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান সূর্যমুখী চাষে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। সূর্যমুখীর সোনালি রং শুধু ফুলের সৌন্দর্য নয়। এটি কৃষকের ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সোনালি এই ফুল যেন কৃষকের ঘরে হাসি ফোটায়—এটাই এখন কুমিল্লার কৃষকদের প্রত্যাশা।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com