ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) শিল্পনগরীতে উৎপাদিত সেমাই এবার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও ভারতের আসামে রপ্তানি করা হচ্ছে এই সেমাই। ভবিষ্যতে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিভিন্ন দেশে রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
এর আগে কুমিল্লা বিসিকে উৎপাদিত সেমাই মূলত বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুরসহ দেশের ২২টি জেলায় সরবরাহ করা হতো। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিদেশি বাজারেও পৌঁছাতে শুরু করেছে এ পণ্য।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীতে বর্তমানে ১০টি কারখানায় সেমাই উৎপাদন করা হয়। এসব কারখানার মধ্যে রয়েছে খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিল, গাউছিয়া ফুড, আরব সুইটস, সততা বেকারি, মেট্রো কনফেকশনারি, রিয়াজ ফ্লাওয়ার মিল ও মক্কা কনজুমার অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এখানে বাংলা, বার্মা চিলি ও লাচ্ছা—এই তিন ধরনের সেমাই তৈরি করা হয়।
খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে গিয়ে দেখা যায়, মেশিনের গরগর শব্দে তৈরি হচ্ছে বাংলা সেমাই। উৎপাদনের পর সেগুলো আলাদা কক্ষে শুকানো হচ্ছে। ঈদের বাজারের চাহিদা মেটাতে শ্রমিকরা দ্রুত প্যাকেটজাত করছেন সেমাই। কেউ প্যাকেট করছেন, কেউ ওজন দিচ্ছেন, কেউ প্যাকেট সিল করছেন, আবার কেউ কার্টনে ভরছেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন শ্রমিক ঘণ্টায় প্রায় দুই থেকে আড়াইশ প্যাকেট সেমাই প্রস্তুত করতে পারেন। বেশি কাজ মানেই বেশি আয়—তাই ঈদের আমেজেই দিন-রাত কাজ করছেন তারা।
কারিগর জাকির হোসেন ও মো. সৈকত বলেন, ‘ঈদে সেমাইয়ের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে আমরা রাত-দিন কাজ করছি। বাড়তি আয়ের জন্য সবাই উৎসবের আমেজে কাজ করছেন।’
কারখানার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সামনে ঈদুল ফিতর। বাজারে সেমাইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ করতে হচ্ছে। আমরা সবসময় পণ্যের মান বজায় রাখার চেষ্টা করি।’
খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ খন্দকার বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে তারা মানসম্মত উপায়ে সেমাই তৈরি করছেন। এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয় না। বর্তমানে তাদের উৎপাদিত সেমাই মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও ভারতের আসামে রপ্তানি করা হচ্ছে।
ফিরোজ খন্দকার বলেন, আগামীতে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জায়গা সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। এ জন্য অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
কুমিল্লা বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, কুমিল্লা বিসিকের খাদ্যপণ্যের সুনাম দীর্ঘদিনের, যার মধ্যে সেমাই অন্যতম। মান নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করি। এখানে উৎপাদিত সেমাই ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে, পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আমরা আশা করি, কুমিল্লা বিসিকের পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাবে।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com