ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। ঘটনাটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
খবরে বলা হয়, শুক্রবার রাতে ইরানের আকাশসীমায় একটি F-15 fighter jet ভূপাতিত করে ইরান। যুদ্ধ শুরুর পর শত্রুপক্ষের হামলায় এটি প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে।
বিমানটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে তাদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালায়। দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়া রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করে এক পাইলটকে উদ্ধার করা হয়।
তবে অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর গুলিতে দুটি হেলিকপ্টারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টার ধোঁয়া ছড়াতে ছড়াতে ইরাক সীমান্তে ফিরে যায়। তবুও উভয় হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করেছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, অপর মার্কিন পাইলটের অবস্থান এখনো অজানা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে স্থানীয় মিলিশিয়াদের তাকে খোঁজার দৃশ্য প্রচার করা হয় এবং তাকে ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সময়ে, A-10 Warthog যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, নিখোঁজ পাইলটের ক্ষতি হলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত Shahid Beheshti University-সহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান এসব হামলাকে “মানবতাবিরোধী অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। কুয়েতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং যুক্তরাজ্যে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি তেল শোধনাগারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer কুয়েতে প্রতিরক্ষা জোরদারে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। Pakistan-এ চলা আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, যুদ্ধ চললেও শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে বন্দি করা হয়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
বর্তমানে সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং নতুন হামলা-পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: The Independent, NBC News.
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com