একযোগে ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত এ হামলায় লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও পূর্ববর্তী সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করছে। তারা দাবি করে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল তদারকির দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাবে আরও কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’র প্রথম ধারার পরিপন্থী এবং এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি সামরিক সূত্রের বরাতে তারা জানায়, তাহরুই গ্রামের কাছে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে কয়েকটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ফলে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া কেশম দ্বীপ থেকেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
সূত্র- প্রেসটিভি।
