কুমিল্লায় মাটি কাটা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা, ৫ দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পূর্ববিরোধ ও মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মকবুল হোসেন (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে তার পরিবারের আরও চার সদস্য বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুল হোসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত মকবুল দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের এশিয়ারপাড় এলাকার মৃত আক্কু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত ২৩ জুন সকালে বাড়ির পাশের জমিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মকবুল হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়; যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরই জেরে পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মকবুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় মকবুল হোসেন ছাড়াও তার ছেলে ইমরান হোসেন, মেয়ে মিনু আক্তার, পুত্রবধূ তানজিনা আক্তার এবং লামিয়া আক্তার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে মকবুল হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের বোন আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ভাই কোনো অপরাধ করেনি। সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

সার্বিক বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এম এ বারী বলেন, ‘হামলার ঘটনায় আগেই মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু আহত ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই মামলাটি এখন প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় হত্যা মামলা হিসেবে হালনাগাদ করা হবে।’

আরো পড়ুন