রাজপথে অনড় ককরোচ পার্টি, উত্তাল ভারতের রাজধানী

পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের। রয়টার্স জানিয়েছে এ খবর।

প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করে সিজেপি। বিক্ষোভকারীদের আটকে দিতে সোমবার সকাল ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এগুলো ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, সংঘর্ষ হয় দফায় দফায়।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে আহত হন অনেকে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়নি। আয়োজকদের দাবি, পুলিশি বাধা সত্ত্বেও প্রায় এক লাখ মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

একই দিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। স্পষ্ট জানান, ৩ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে আমরা ৩টি দাবি জানিয়েছি। সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

শুধু দিল্লি নয়, সিজেপির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

এদিকে আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্ন ফাঁসের জেরে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ বেকারত্ব ও বারবার প্রশ্নফাঁসে ক্ষুব্ধ তরুণরাই এ আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

আরো পড়ুন