কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাত শিক্ষককে ওএসডি করা হয়েছে। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
রাত পৌনে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম।
সাত শিক্ষকের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন না। এছাড়া গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ছিলেন।
এর আগে গত ১৩ জুলাই সকালে টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু 'বিবেক' স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় নৌকা ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনার পর গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো কর্মকর্তাকে যে কোনো সময় বদলি করতে পারে।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাত শিক্ষককে ওএসডি ও সংযুক্ত করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com