যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস এবং ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
রোববার (২৬ জুলাই) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এসব দাবি করেন।
মোহেব্বি জানান, ৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়। তার দাবি, হামলায় ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব সামরিক সরঞ্জাম মার্কিন ঘাঁটিতে মাটিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করা হয়। তবে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাপক অবকাঠামো ক্ষতির দাবি
ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তার দাবি, হামলায় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা রাডার, বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, অস্ত্র ও জ্বালানি মজুতাগার, লজিস্টিক সেন্টার, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মোহেব্বি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা আটটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি শেল্টার থাকা একটি স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি
আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করার পর ইরানি হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
মোহেব্বি বলেন, আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা নিহতের চেয়েও ‘অনেক বেশি’। হতাহতের ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে যুদ্ধক্ষেত্রের স্থানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।
সমর্থনকারী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি
যুক্তরাজ্য, উপসাগরীয় দেশ বা অন্য কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন করলে তারাও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মোহেব্বি।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে অভিযান পরিচালনা করেছে। লন্ডন ওয়াশিংটনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাজ্য ইরানের জন্য ‘নিশ্চিত ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশল প্রস্তুত রয়েছে।
ইসরায়েলকেও সতর্কবার্তা
ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করার বিষয়ে সতর্ক করে মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে তেহরান তাদের ওপর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে সামরিকভাবে জড়িয়ে রাখতে চাইছে।
মোহেব্বির দাবি, ইসরায়েল যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা তেলআবিব ভালোভাবেই জানে।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com