কুমিল্লায় কলেজছাত্রীকে অটোরিকশা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

কুমিল্লা নগরীতে আনিসা তাছনিম তনয়া (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় চার ঘণ্টা পর আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অনন্য চৌধুরী (২১) নামে এক তরুণসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, তনয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত অনন্য তাদের প্রতিবেশী। অভিযোগে বলা হয়, গত ৩-৪ দিন ধরে কলেজ ও প্রাইভেটে যাওয়া-আসার পথে এবং বাসার সামনে অনন্য ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের মাকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তনয়াকে তার মা অটোরিকশায় তুলে সরকারি মহিলা কলেজের সামনে প্রাইভেট পড়তে পাঠান। পথে কুসিক পুলিশ লাইন মোড় এলাকায় অনন্য চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন অটোরিকশাটির গতিরোধ করে তনয়াকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে নির্ধারিত সময়ে তনয়া বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আলেখারচর বিশ্বরোডের ঔষধ মার্কেট এলাকার এক দোকানদার তনয়াকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই দোকানদার তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অটোরিকশাযোগে তনয়াকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, উদ্ধারের পর তনয়া তাদের জানিয়েছেন, তাকে একটি গাড়িতে তুলে আলেখারচর এলাকার একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি বাটন মোবাইল ফোন ও কলেজ ব্যাগে থাকা বই-খাতা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের আরও দাবি, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তনয়ার মুখ বেঁধে তাকে আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন তনয়ার বাবা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।
