
কুমিল্লায় জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোরশেদা বেগম নামে এক নারী আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ষোলনল মধ্যমপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোরশেদা বেগমের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় মো. রাসেল জনিসহ কয়েকজনের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, মোরশেদা বেগমের ক্রয়কৃত একটি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো। একই সঙ্গে জমি না ছাড়লে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মো. রাসেল জনিসহ কয়েকজন দলবদ্ধভাবে মোরশেদা বেগমের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা বিরোধীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং চাঁদার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মোরশেদা বেগম বাড়ি থেকে বের হলে মো. রাসেল জনি তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার সামনের অংশে দা দিয়ে কোপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে জনির সহযোগী হালিম, রোকেয়া, ফাতেমা ও শাহেনাসহ অন্যরা তাঁকে ইট দিয়ে আঘাত, মারধর ও লাথি মারেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মোরশেদা বেগমের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে তাঁর মাথা ও গলায় গুরুতর জখম হয়। পরে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁর বসতঘরে হামলা চালিয়ে দরজা, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় ঘরের সুকেস ভেঙে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই ঘটনায় মোরশেদা বেগমের মেয়ের পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের আবারও হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মোরশেদা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মোরশেদা বেগমের দাবি, হামলার এ ঘটনা নতুন নয়। এর প্রায় দুই মাস আগে রাসেল জনিসহ কয়েকজন তাঁর ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে আমরা স্বামী স্ত্রী সহ ছেলে মো. আরাফাকে চুরির অপবাদ দিয়ে মামলা করেন। এ মামলায় আমার স্বামী সন্তান সহ তিনজনকে আসামি করায় পুলিশ আমাদেরকে ধরে নিয়ে জেলে পাঠায়। ওই মামলায় আমি ও আমার স্বামী জেল খেটে বের হয়েছি। আমার ছেলে আরাফাত এখনো কারাগারে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি অসহায় মানুষ। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে ভিকটিমের ভাইয়ের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি, এই জমিটি ছাড়া আমার আর কোন সম্বল নেই, একটি কুচক্রী মহল সহ এখন সেটি দখলের চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাই। জীবন রক্ষার জন্য বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।”
অভিযোগকারী মোরশেদা বেগম তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com