কুমিল্লার বরুড়ায় বিএনপি নেতা ও লন্ডনপ্রবাসী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইকবালের পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির অপর একটি গ্রুপের নেতা ও তার চাচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে বরুড়া সিআর মামলা নং ৭৫/২০২৬ দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ইকবালের স্ত্রী, তার বাবা এবং পরিবারের আরও কয়েকজনসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
অতীতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়ার অভিযোগ
ইকবালের পরিবারের দাবি, বর্তমান মামলাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাকে ও তার পরিনারকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইকবালের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই মামলাটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ইকবালের চাচাতো ভাই ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এমডি মিজানের সহযোগিতায় করা হয়েছিল।
পরিবারের দাবি, তারা ওই মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির রায় ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ঘোষণা করা হয় এবং ইকবালকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরিবারের আরও দাবি, ২০২২ সালেও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০/২২ নম্বরের আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়, যেটিকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবে উল্লেখ করছেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই মামলাটিও তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অভিযোগ
ইকবালের পরিবারের অভিযোগ, তাদের বসতভিটার জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে আবু তাহেরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পরিবারের দাবি, তাদের বসতভিটা থেকে সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে সম্পত্তিটি এককভাবে ভোগদখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিবারের ভাষ্য, ইকবালের বাবা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে চাপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ, হামলা ও হয়রানি করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেচে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি আব্দুল মালেক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ঐ পরিবারটা অনেক বছর দরে মামলা হামলাতে আক্রান্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে হুমকির অভিযোগ
ইকবালের পরিবারের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, ইকবালকে দেশে ফিরে এসে বিষয়টি মোকাবিলা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইকবাল দেশে না ফিরলে তার স্ত্রী ও সন্তানকেও ক্ষতির মুখে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইকবাল তার স্ত্রী ও সন্তানকে অন্যত্র ভাড়া বাসায় রেখেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের দাবি, আবু তাহের তাদের অবস্থান জানতে পারেন—এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তার কারণে তাদের একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
লিজা আক্তারকে ফোনে হুমকির অভিযোগ, বরুড়া থানায় জিডি
ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তার স্ত্রী লিজা আক্তারকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের দাবি, ফোনে তাকে ইকবালকে দেশে ফিরে আসতে বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অন্যথায় লিজা আক্তার ও তার সন্তানকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে লিজা আক্তার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বরুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জিডি নম্বর ২১৯০।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মামলা ও হুমকির ঘটনায় তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে কাউকে হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
মোবাইল: +৮৮০১৭১৭৯৬০০৯৭
ইমেইল: news@dailycomillanews.com
www.dailycomillanews.com