ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলে দিন দিন বেড়েই চলছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা।

অভিযোগ রয়েছে,বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি রহমানের রুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নির্যাতনের ঘটনার। এমনকি নির্যাতনের সময় নির্যাতিতদের আর্তনাদ যেন বাইরে থেকে না শোনা যায় সে জন্য উচ্চ স্বরে গান বাজানো হয়।নেত্রীর কথা না শুনলে বা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না গেলে এমন মারধরের শিকার হন শিক্ষার্থীরা।এই নেত্রীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে হলের এক রুম দখল করে রাখার। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হলের ডাইনিং ম্যানেজার সিনিয়র শিক্ষার্থী লিপি আক্তারকে রুমে নিয়ে উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।এ সময় আইভি ছাড়াও ছাত্রলীগের পদধারী দুইজন নেত্রী ইসরাত জাহান জেরিন ও অপর্ণা নাথ ডাইনিং ম্যানেজারকে মারধর করেন।ছাত্রলীগ থেকে বলা হলো মারধরের ঘটনা ঘটেনি, কথা কাটাকাটি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রী হলে থাকা দুই ছাত্রী বলেন, হলের খাবার বা কোনো অনিয়ম নিয়ে কথা বললেই শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন করা হয়। হলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় নাশকতার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ছাত্রী হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের পুলিশে দেওয়ার জন্য পুলিশ নিয়ে আসার অভিযোগে মানববন্ধনও করেছেন এই হলের ছাত্রীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মারধরের শিকার এক ছাত্রী বলেন, ছাত্রলীগের কোনো একটি কর্মসূচিতে না গেলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের অত্যাচারের শিকার হতে হয়। আবার কখনও পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটিমাত্র আবাসিক হল হওয়ায় সিটের সংকট রয়েছে শুরু থেকেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিট না পেলেও আইভি রহমান হলের ১১৩ নম্বর রুমটি একাই দখল করে আছেন। শুধু তাই নয়, ছাত্রীদের আবাসিক এ হলটিতে শিক্ষার্থীদের কে সিট পাবে আর কে পাবে না- সবই নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেত্রী আইভি রহমান প্রকাশ্যে সিট বণ্টনের অধিকার তার একার- এমনটাই প্রচার করে বেড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইভি রহমান অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি তার রুমে উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাকে গুজব বলে অভিহিত করেন। ডাইনিং ম্যানেজারকে মারধরের অভিযোগটিকে আংশিক সত্য বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বড় বোনরা যখন ডাইনিংয়ের টাকার হিসাব ঠিকভাবে দিচ্ছিলেন না, তখন আমরা কথা বলি। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। কেউ কাউকে মারধর করেনি।’

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত কোনো টর্চার সেল নেই। ছাত্রলীগের কেউ যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ছাত্রী হলে যে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল, তা আমরা বসে মীমাংসা করে দিয়েছি।’ ছাত্রলীগ নেত্রীর এক রুম দখল করে থাকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দু’জন শিক্ষার্থী থাকতে পারে এমন একটি রুমে থাকেন তিনি। আমার জানা মতে, ওই রুমে দু’জন শিক্ষার্থীই থাকেন।

ছাত্রলীগ নেত্রীর একা এক রুম দখল করে থাকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের প্রভোস্ট মো. সাদেকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের হলে ছাত্রীদের সিট সংকট অনেক। কেউ যদি একা একটি রুম দখল করে রাখে, তা অবশ্যই অন্যায়। আমরা দুই দিনের মধ্যে মিটিং করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ ছাত্রীদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে হল প্রশাসন খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এমন কোনো ঘটনার সত্যতা মিললে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।’