ডেস্ক রিপোর্টঃ কুবি প্রতিনিধি, ২৬ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এলাকার জনজীবন মশার উপদ্রবে বিপর্যস্ত। মশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকালের পর থেকে হলের কক্ষে কিংবা ক্যাম্পাসে বসার কোনো উপায় নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলগুলোর পাশের ঝোঁপ-জঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে বিকাল হতেই শুরু হয়ে যায় মশার উপদ্রব। ক্যাম্পাসের বাবুই চত্বর, বঙ্গবন্ধু চত্বর, শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চহসহ পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে সন্ধ্যার পর মশার জন্য একদণ্ড বসারও উপায় থাকে না। শুধু তাই নয়, আবাসিক হলগুলোতে মশার উপদ্রবের কারণে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

হলের পাশে জঙ্গল ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় অত্যধিক মশার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন কুবির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান ভূঁইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একই দাবি জানিয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারিন জাহান সিগমা বলেন, ‘হঠাৎ করে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় হলে বসে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারির ভেতর পড়াশোনা করতে হয়। এতে পড়াশোনার মনযোগ ক্ষুণ্ণ হয়।’

ক্যাম্পাসে বিদ্যমান ঝোঁপ-ঝাড়, ড্রেন বা আবদ্ধ জায়গায় জমে থাকা পানি, বিভিন্ন স্থানে থাকা ময়লা-আবর্জনায় মশা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান।

তিনি বলেন, ‘মশা থেকে ডেঙ্গুজ্বর, হাত-পা ফোলাসহ নানাবিধ রোগ হতে পারে। তাই মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রচলিত কয়েল, স্প্রে ও ঘুমানোর সময় মশারি টানা জরুরি।’

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের প্রাধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান জানান, ‘মশা নিধনসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে আমরা হল প্রাধ্যক্ষদের বসার কথা রয়েছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার দপ্তরের এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলটি সিটি কর্পোরেশনের বাহিরে হওয়ায় মশা নিধনে ব্যবহৃত সিটি কর্পোরেশনের স্প্রে আমরা আনতে পারছি না। তবে এ ব্যাপারে আমি রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: