কুবি প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বিভক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও ছাত্রলীগ কর্তৃক হয়রানি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠাল তলায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের জন্য জড়ো হয়। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দ্বিখন্ডিত করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১তম সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদনের পর থেকে ক্যাম্পাস বিভক্তির গুঞ্জন উঠে। এতে শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজে প্রতিবাদ ঝড় তোলে। প্রতিবাদের অংশ এবং পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে মানববন্ধনের জন্য কাঁঠাল তলায় করে তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে মানববন্ধনের অনুমতি নিতে গেলে তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া মানববন্ধনের জন্য জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের নাম, বিভাগ, ব্যাচ জানতে চেয়ে ছবি তোলে এবং সরে দাঁড়াতে বলে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় সেখানে থাকা সাংবাদিকরা জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার সামনে হাত দিয়ে ‘মানববন্ধন তো হচ্ছে না, কিসের ছবি তুলছেন?’ বলে সাংবাদিকদের বাধা দেয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘এ সময় আমরা উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করছিলাম। তাই শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন আপাতত স্থগিতের জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু কোন হয়রানি করা হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী মানববন্ধনের অনুমতি নেওয়ার জন্য আসলে তাদের আবেদন পত্র নিয়ে আসতে বলি। কিন্তু আবেদন পত্রে কারো সুনির্দিষ্ট নাম না থাকায় তাদেরকে পুনরায় আবেদনকারীদের নাম, বিভাগ, ব্যাচ ও মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করে আবেদন পত্র জমা দিতে বলি। এখানে তাদের হয়রানি করা হয়নি।’

এদিকে ক্যাম্পাস বিভক্তির প্রতিবাদে সকাল থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধরেখে এবং টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভূমি অধিগ্রহন করতে হলে বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায়তেই করতে হবে।