ডেস্ক রিপোর্টঃ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগনেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

কুমিল্লার নিমসারের বড় সবজির আড়তে গতকাল সোমবার রাতে হাজির হন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছিলেন গভীর রাত পর্যন্ত। কথা বলেন কৃষকদের সঙ্গে। যারা কাঁধে করে সবজি নিয়ে এসেছেন; বাজারে বিক্রি করবেন।

নিমসারে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানলেন, ফুলকপি সাত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই ফুলকপি ঢাকার বাজারে বিক্রি হয় ৫০ টাকা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রশ্ন করেন, ‘কুমিল্লার একটি বাজারে সাত টাকায় যে ফুলকপিটি বিক্রি হয়, তার দাম কারওয়ানবাজার ঘুরে ঢাকার খুচরা বাজারে ৫০ টাকা হয়ে যায়। সেটা কেন?’

ওই সভায় নানক জানান, গতকাল সোমবার রাতেই তিনি কুমিল্লার নিমসারের কাঁচাবাজার দেখতে যান। সেখানে গিয়েই সবজির দামের এত ব্যবধান চোখে পড়ে তাঁর।

‘নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে ব্যবসায়ী সমাজের করণীয়’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটি। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে থাকব জানতে পেরে আমি রাত ১১টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্য রওনা দেই। রাত সোয়া ১২টার দিকে নিমসার বাজারে গিয়ে পৌঁছাই এবং রাত আড়াইটা পর্যন্ত আমি নিমসার বাজারে বাজারদরটি বোঝার চেষ্টা করেছি। আমি কথা বলেছি তৃণমূলের কৃষকের সঙ্গে। যারা মাথায় করে মাল নিয়ে এসে বিক্রি করছেন। জানতে চেয়েছি তারা কত টাকা পাচ্ছে? এই বিষয়গুলো আমি লুঙ্গি পরে সাধারণ মানুষের মতো বোঝার চেষ্টা করেছি। কেন নিমসার বাজারে যে ফুলকপি কিনছে সাত টাকায়, সেই ফুলকপি কারওয়ানবাজারে তিন হাত বদলে ২০ টাকায় বিক্রি হবে। সেই ২০ টাকার কারওয়ান বাজারের কপি এখান থেকে যেতে না যেতেই কৃষি মার্কেটে গিয়ে ৪০ টাকা ৫০ টাকা হয়ে যাবে কেন? এটি মেনে নেওয়া যায় না। এটি কোনো জনবান্ধব সরকার মেনে নিতে পারে না। এটি জনগণের দল আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারে না।’

এ সময় নানক বলেন, ‘সারা বিশ্বে রমজান মাসে বাজারদর নেমে যায় আর আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে দাম ওপরে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এটি লজ্জার।’

দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি অসুস্থ অবস্থা বিরাজ করছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সেই অসুস্থ অবস্থায় দায়িত্বশীল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিশ্চুপ থাকতে পারে না, আমরা কখনো থাকিনি। ২০০৮ সালের সরকার গঠনের পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছিলাম একটি বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বসে আমরা চেষ্টা করেছিলাম বোঝার জন্য; কোথায় শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে।’

নানক বলেন, ‘এই বাজার পরিস্থিতিকে লাগামহীন হতে দেওয়া যাবে না। একটি জনগণের সরকার এমনিভাবে বাজারের যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি রয়েছে, সেটি মেনে নিতে পারে না। কারণ এই সরকার শেখ হাসিনার সরকার, ব্যবসা বান্ধব সরকার।’

এ সময় আওয়ামী লীগের এই নেতা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভোজ্য তেলের বাজার, চালের দাম বাড়েনি? কেন বাড়ল? কেন বাড়ছে আদার দাম? কেন বাড়ছে রসুনের দাম? বাঁধাকপি, ফুলকপি এগুলো আমি বলতে চাই না। কেন ফুলকপির দাম বাড়বে?’

নানক আরো বলেন, ‘আজকে থেকে সব ব্যবসায়ী মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, দর সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। মধ্যবিত্তশ্রেণি এখন ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, ‘আজকে ভারত থেকে গরু আসতে হয় না। গরু এখন আমাদের দেশে উদ্বৃত। এটা সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য। তিনি একটি বাড়ি একটি খামার করে মানুষকে দরিদ্রতা থেকে মুক্ত করেছেন। পশু পালনে উৎসাহিত করেছেন। এখন গরু খামারির অভাব নেই।’

দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকার উৎখাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আন্দোলনের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় নানক বলেন, ‘আমরা এর কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ খুঁজে পাই না। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অস্বস্তিতে রাখলে দেশ অস্বস্তিতে থাকবে। কাজেই আজকে থেকে চিন্তা করতে হবে আগামীকাল থেকে যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে। দ্রব্যমূল্যকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিতে সূচনা বক্তব্য দেন সদস্য সচিব আব্দুস ছাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সূত্রঃ এনটিভি