ডেস্ক রিপোর্টঃ “বিশ্বের কোটি কোটি শিশুর জীবনরক্ষাকারী ওরালস্যালাইনের (ORS) আবিস্কারে ও ব্যবহার বাড়াতে যার অসামান্য অবদান,অন্যন্য সেই ডা. রফিকুল ইসলামের আজ মৃত্যুদিবস।

১৯৩৬ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রফিকুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই মেয়ে ও একছেলের জনক। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে তৎকালীন আইসিডিডিআর-এ ১৯৬০ সালে যোগ দেন। ২০০০ সালে সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি আইসিডিডিআরবিতে থাকাকালীন সময়ে বেশ কিছু ওষুধ আবিষ্কার করেন। এর মধ্যে ওরস্যালাইন অন্যতম।

১৯৭১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বাংলাদেশি শরণার্থী কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়। সে সময়ে ওই রোগীদের বাঁচাতে ওরস্যালাইনের প্রয়োগ করেন তিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তার আবিষ্কার ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডা. রফিকুল ইসলামের ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে দেশি এনজিও ব্র্যাক এই ওরস্যালাইনকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়।

ডায়রিয়ার হাত থেকে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দেওয়া হয় খাবার স্যালাইনকে (ওআরএস)। সব ওষুধের দোকানেই স্বল্প মূল্যে খাবার স্যালাইন পাওয়া যায়। তবে হাতের কাছে এটি পাওয়া না গেলেও সবাই জানেন— এক মুঠো চিনি বা গুড় আর তিন আঙ্গুলের এক চিমটি লবণ আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে ডায়রিয়ার প্রাণরক্ষাকারী দ্রবণটি তৈরি করা যায়। জনস্বাস্থ্যে খাবার স্যালাইনের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যান্সেট এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আখ্যা দিয়েছিল।

তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, কেবল ডাক্তার হিসেবেই না, বিক্রমপুর অঞ্চলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।

১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার স্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ডায়রিয়ার চিকিৎসায় স্যালাইনের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এটি “ঢাকা স্যালাইন” নামেও পরিচিতি পেয়েছিলো।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের গ্র্যাজুয়েট রফিকুল ইসলাম শেষ জীবনে সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলেন।”

মৃত্যুদিবসে এই সূর্যসন্তানকে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।