দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় অলিখিত মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ড গড়ে তোলায় অর্ধেকেরও বেশী স্থানজুড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলোমেলোভাবে গাড়িগুলো দাড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দ্রুতগতির ব্যক্তিগত গাড়ি,বাস,ট্রাকসহ অন্যান্য মালামালবাহী গাড়িগুলো দুর্ঘটনা এড়াতে এসময় ঝুঁকিতে পারাপার হতে দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কটি দেশের প্রধান জাতীয় সড়ক। কুমিল্লা অংশে রয়েছে মহাসড়কের প্রায় ১’শ কিলোমিটার অংশ। ফোরলেনের মহাসড়কটিতে প্রতিদিন ২৫ হাজারেরও বেশী বিভিন্ন শ্রেনীর বাস, ট্রাক,লং ভেহিকেল, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করে। ওয়ান ওয়ে হওয়ার কারণে প্রতিটি গাড়িই দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। এই পথেই দেশের সিংহভাগ আমদানী রপ্তানী পন্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন হচ্ছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকের উল্লেখযোগ্য অংশ এই মহাসড়ক পথে কুমিল্লা হয়ে চট্রগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রামগড়, বান্দরবান, কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই পথে যাতায়াত করছে।

সরেজমিন ঘুরে পাওয়া চিত্রে দেখা গেছে মহাসড়কের উপর কোন ষ্ট্যান্ড চালুর নির্দেশনা না থাকলেও কুমিল্লার চান্দিনা বাগুড় এলাকায় থাকা স্থানটিতে বেশ কিছুদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মারুতি (ছোট আকারের মাইক্রোবাস) স্ট্যান্ড চালু করে। সকাল থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত এসব গাড়িগুলো চান্দিনা-ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা রুটে যাতায়াত করে।

একাধিক মারুতি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩’শ মারুতি গাড়ি এই রুটে চলাচল করে। মহাসড়কের উপর কোন ষ্ট্যান্ড চালুর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই চক্রটি কোন নিষেধাজ্ঞা মানছেনা। ফলে যাত্রী উঠানামা করানো হচ্ছে মহাসড়কের উপর গাড়ি রেখেই। এতে মহাসড়কের চান্দিনা বাগুড় ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার ঢাকাগামী অংশের প্রায় অর্ধেকেরও বেশী স্থান তাদের গাড়িগুলোর দখলে চলে যায়। এতে দ্রুতগতির যানবাহন সমুহের চালকরা দুর্ঘটনা এড়াতে চান্দিনা এলাকায় এসে কখনো দীর্ঘসময় দাড়িয়ে থাকে, কখনোবা ধীরগতিতে এই স্থানটি পারাপার হতে দেখা যায়।

দুরপাল্লার বিলাসবহুল একাধিক যাত্রীবাহী বাসের চালকরা জানান, আমাদের সময়ের সাথে পাল্লাদিয়ে চলাচল করতে হয়। অধিকাংশ যাত্রীই নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে চায় গন্তব্যে। আমাদেরও একটা নির্দেশনা থাকে নির্দিষ্ট সময়ের। ফলে সেই সময়ের মধ্যেই আমরা গন্তব্যে পৌঁছতে চেষ্টা করি। তবে প্রতিদিনই চান্দিনা বাগুড় এলাকায় যাটজট লেগেই থাকে। এজন্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে অসুবিধা হয়। তারা আরো জানান, এখানে সড়কের বেশীরভাগ অংশই মাইক্রোবাসের দখলে থাকে। এসব নিয়ন্ত্রণে কোন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যদেরও দেখা পাওয়া যায়না।

স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, চান্দিনা বাগুড় এলাকায় মহাসড়কের উপর মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ডটি পরিচালনা করছে লিটন সরকার নামের এক ব্যক্তি। প্রতিদিন তার ভাড়াটে কয়েকজন লোক জসিম, সোহাগ, আজিজ, আলাউদ্দিন, শফিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি গাড়ি থেকে ১২০ টাকা করে চাঁদা তুলছেন।

সুত্রটি আরো জানায়, এজন্য সে তার ষ্ট্যান্ডটি স্বাভাবিকভাবে চালনা করতে চান্দিনা থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে মাসিক টাকা দিচ্ছে।

একাধীক মারুতি চালক প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, যদি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তাদের গাড়িতে মোটা লাঠি দিয়ে পিটাতে শুরু করে,কখনোবা ঠেলে খালে ফেলে দেয়।

বিষয়টি জানতে চাইলে লিটন সরকার বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানিন। আমি কোন টাকা উঠাইনা। কিছু লোক আছে টাকা উঠাইয়া তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এটা আমি বলতে পারবোনা।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুদ্দিন ইলিয়াছ বলেন, কে বা কাহারা টাকা উঠায় এটা আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি দেখবো।

হাইওয়ে পূর্বাঞ্চল (কুমিল্লা)’র পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশের জন্য কেউ কোথাও টাকা তুলেনা। যদি কেউ হাইওয়ে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা তুলে তাহলে আমরা আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। আমরা মহাসড়কে চাঁদাবাজী বন্ধ করেছি। যদি কেউ চাঁদাবাজী করে থাকে আমরা তার বিরুদ্দে ব্যবস্থা নিব।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: