পিচ ঢালাই উঠে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে কুমিল্লার জেলার প্রায় পাঁচশো’ কিলোমিটারের বেশি সড়কে। এসব সড়ক জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সড়কের স্থানে স্থানে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি দুর্বিষহ রূপ নিচ্ছে। গত বছরের বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়ায়, চলতি বছরের ভারী বর্ষণে এই বেহাল অবস্থা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার (এলজিইডি) দেওয়া তথ্য ও সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় সওজ বিভাগ ও এলজিইডি’র আওতাধীন প্রায় পাঁচশ’ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার এলজিইডি’র ১৯৮ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকাসহ সর্বমোট প্রায় পাঁচশ’ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৭৫১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। এর মধ্যে কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক মহাসড়ক, লাকসাম-চট্টগ্রাম সড়ক, এবং কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড় থেকে কোটবাড়ি হয়ে বরুড়া সড়কের পিচ ঢালাই উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে দিন দিন গর্তের গভীরতা বাড়ছে। অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচল। সওজ কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন পর পরই ইট দিয়ে গভীর গর্তগুলোতে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলেও থাকছে না ২-৩ দিনের বেশি। ওই সব স্থানে প্রায়ই যানবাহন আটকে যাচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনা।

এছাড়া কুমিল্লায় এলজিইডির ১০ হাজার ২০০কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রামের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও কুমিল্লা শহরতলী, উপজেলা সদর এবং গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোর একই অবস্থা। ইট বিছানো এবং মাটির রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার (এলজিইডি) সূত্র মতে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ১২টি সড়কের ১৭ কিলোমিটার, বি-পাড়া উপজেলার ৮টি সড়কের ১১ কিলোমিটার, বুড়িচং উপজেলার ১৪টি সড়কের ১৭ কিলোমিটার, বরুড়া উপজেলার ১০টি সড়কের ৯ কিলোমিটার, চান্দিনা উপজেলার ৪টি সড়কের ১৮ কিলোমিটার, সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি সড়কের ৩ কিলোমিটার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১টি সড়কের ২০ কিলোমিটার, দেবিদ্বার উপজেলার ৭টি সড়কের সাত কিলোমিটার, দাউদকান্দি উপজেলার একটি সড়কের দুই কিলোমিটার, হোমনা উপজেলার ৩টি সড়কের ৮ কিলোমিটার, লাকসাম উপজেলার ১৩টি সড়কের ৩৬ কিলোমিটার, মেঘনা উপজেলার ৫টি সড়কের ৪ কিলোমিটার, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৭টি সড়কের ১৩ কিলোমিটার, মুরাদনগর উপজেলার ৩টি সড়কের ১৬ কিলোমিটার, নাঙ্গলকোট উপজেলার ৩টি সড়কের ৫ কিলোমিটার, লালমাই উপজেলার ৬টি সড়কের ১৪ কিরোমিটার এবং তিতাস উপজেলার ৩টি সড়কের ৫ কিলোমিটার সড়ক বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে দিন দিন গভীর গর্তে রূপ নিচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সড়ক ও জনপথ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের কয়েকশ’ কিলোমিটার সড়ক।

অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান ভূঁইয়া নামে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের একজন নিয়মিত যাত্রী জানান, নোয়াখালী সড়কের চার লেনের উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে কুমিল্লার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এলজিইডি কুমিল্লার সহকারী প্রকৌশলী রায়হান আলম চৌধুরী বলেন, ‘গত বছরের বর্ষা এবং অতি বৃষ্টির কারণে প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংস্কারের প্রয়োজন এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করা হবে। ২০০ কিলোমিটার সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা (৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮০ টাকা) অনুমোদন হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামীর বছরের প্রথম দিকের এই সড়কগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শেষ হবে।’

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বেশ কিছু অংশ, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক এবং লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কসহ জেলায় সওজ বিভাগের আওতাধীন প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রায়োজন হয়েছে দাঁড়িয়েছে। আস্তে আস্তে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজ করা হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: