ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দেবীদ্বারে আপন চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. সোহেল (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাফিজ আহমেদ একদল পুলিশ নিয়ে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।

ধর্ষক মো. সোহেল মোহাম্মদপুর (ডাবপার) গ্রামের সাফিকুল ইসলামের পুত্র। তিনি পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকসা চালক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোহেল শিশুটিকে হত্যার হুমকী ও নানাভাবে ভীতিপ্রদর্শন করে প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছেন। ভিক্টিমের মা ও এক ভাই নিয়ে তাদের সংসার। প্রায় ৭ বছর পূর্বে তার মানসিক প্রতিবন্ধী পিতা নিখোঁজ হন। পিতার অবর্তমানে মা ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালিয়ে আসছেন। ধর্ষিতা শিশুটি মোহাম্মদপুর ইসলামিয়া মাদরাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ধর্ষক সোহেল পরকিয়া প্রেমের টানে পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর (দারোরা) গ্রামের ৬ সন্তানের জননী নূরজাহানকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রী সৌদি আরব চলে যান। প্রায় দেড় বছর কর্মজীবন শেষ করে ৭ মাস পূর্বে দেশে আসেন তিনি। আসার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলতে থাকে। গত রবিবারও ধর্ষণের শিকার হলে ভিক্টিম তার ভাইয়ের বৌ নূরজাহানকে বিষয়টি অবগত করেন। এ নিয়ে ধর্ষকের স্ত্রী নূরজাহান বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ সমাজপতিদের অবগত করেন। সমাজের একটি অংশ ভিক্টিমের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মিমাংসার প্রস্তাবে কিছু শর্ত জুড়ে দেন। ধর্ষক সোহেল ওই শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করেন।

ভিক্টিমের মা জানান, প্রায় দেড় বছর পূর্বে আমার মেয়ের কান্নাকাটির শব্দে সোহেলের ঘরে গিয়ে দেখি মেয়েকে নির্যাতন করেছে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজনও জড়ো হয়ে যায়। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য মেয়েকে বলি কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি ভাই মেরেছে, তাই কান্না করেছি। কারণ আমার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামীর অনুপস্থিতিতে আমার ভাসুরের ছেলে সোহেলের বড় ভাই বর্তমানে সৌদি প্রবাসী সামসুদ্দিন কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হই। বিষয়টি আমার ভাসুর সফিকুল ইসলাম ও জা রাবেয়া বেগমের নিকট বিচার চাওয়ায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। সে কারণে মাথা গোজার ঠাই হারানোর ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখি। আজ তার স্ত্রীই এটা প্রকাশ করেছে।

তবে ভিক্টিম শিশুটি জানায়, আমার মা প্রায়ই ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যবাড়িতে কাজ করার কারণে ঘর খালি থাকত। সোহেল ভাই আমাকে ও আমার মা-ভাইকে হত্যার হুমকী এবং বাড়ি ছাড়ার ভয় দেখিয়ে গত দেড় বছর ধরে মাঝে মাঝে আমাকে নির্যাতন করতেন। তখন আমার ভাবী (সোহেলের স্ত্রী নূরজাহান) সৌদি আরব ছিলেন। গত রোজার ঈদের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করতেন। প্রতিবারই আমাকে ২০ টাকা করে দিতেন। আমি নির্যাতন সইতে না পেরে ভাবীকে বিষয়টি জানাই।

ধর্ষক মো. সোহেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং ঘটনাটি প্রকাশে তার স্ত্রীকে দায়ী করে বলেন, তার সাথে আমার আগামী ২৫ জুন ডিভোর্স হওয়ার কথা। তাই সে এটা করেছে।

এলাহাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম সরকার, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল হাসেম সরকার ও ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মজিবুর রহমান ভিক্টিম ও তার পরিবারসহ ধর্ষককে জ্ঞিাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে দাবি করে বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় আসল সত্য বেড়িয়ে আসবে। তারা ধর্ষকের উপযুক্ত বিচারও দাবি করেন।

এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাফিজ আহমেদ জানান, ধর্ষক এবং ভিক্টিমকে থানায় নিয়ে এসেছি। সাথে ভিক্টিমের মা ও নানী রয়েছে। সোহেলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত সোহেল ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে। বুধবার সকালে আসামি সোহেলকে কোর্টহাজতে চালান করা হবে এবং ভিক্টিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা ও ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে বলেও তিনি জানান।