ডেস্ক রিপোর্টঃ বসন্তের শুরুতেই হঠাৎ বৃষ্টিতে কুমিল্লার চান্দিনায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। আলু চাষের মৌসুম জুড়ে আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় আলুর কল্পনাতীত ফলনের পর জমি থেকে আলু উত্তোলন মুহুর্তে অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে গেছে এ অঞ্চলের কৃষক।

টানা কয়েক বছর আলুর দর পতন ও গত বছরের আলু উত্তোলন মুহুর্তে বৃষ্টির হানায় বেশ ভোগান্তি এবং লোকসান গুনতে হয়েছে আলু চাষীদের। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও ঘুড়ে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় এবারও আলু চাষাবাদ করেছে এ জেলার কৃষক। মৌসুম জুড়ে আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ। কিন্তু গত বছরের মত এবারও আলু উত্তোলন মুহুর্তে বাঁধ সাধে বৃষ্টি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে চাষাবাদ হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। মৌসুম জুড়ে আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় এবং অধিকাংশ জমিতে আগাম চাষাবাদের কারণে এবছর বেশ আগে-ভাগেই আলু উত্তোলন শুরু করেছে কৃষক। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৭শ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী থেকে টানা বর্ষণে বাকি ৫ হাজার হেক্টর জমির আলু নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে জেলার দশ সহ¯্রাধিক কৃষক।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আলু জমিতে ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেউ আলু উত্তোলন করছে, কেউবা জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ বৃষ্টি থামার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

কথা হয় জেলার চান্দিনা উপজেলার হারং গ্রামের কৃষক মোসলেহ উদ্দিন এর সাথে। তিনি জানান, এবছর আমি ৬৬ শতাংশ জমিতে আলু চাষাবাদ করি। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে বুধবার থেকে আলু উত্তোলন শুরু করি। যেসব জমিতে এখনও পানি জমিনি সেগুলো উঠাতে শুরু করেছি। যেগুলোতে পানি জমেছে সেগুলোর পানি সরিয়ে দিয়েছি।

চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের আলু চাষী আব্দুল মান্নান জানান, গত বছর আলু রোপনের মুহুর্তে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন পিছিয়ে পড়ে রোপন করা হয়। আবার উত্তোলনের মুহুর্তে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকে টানা বর্ষণে আমাদের মাঠের অধিকাংশ জমির আলু পানির নিচে তলিয়ে যায়। গত কয়েক বছরের যাবৎ আলুতে শুধু লোকসান আর লোকসান।

এবার মৌসুমের শুরু থেকে বেশ ভাল ভাবেই চলছিল। আবহাওয়া ভাল থাকায় ১/২ সপ্তাহ আগেই আলু রোপন করা হয়। যারফলে ফেব্রুয়ারীর তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মাঠে আলু উত্তোলন শুরু হয়। পুরো মাঠের আলু উত্তোলনে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। কিন্তু এবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আমাদের অনেক জমির আলু উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন যদি ভারী বৃষ্টি হয় বা আরও ২/১ দিন বৃষ্টি থাকে তাহলে আলু জমি থেকে আর ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।

জেলার দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার সারওয়ার জামান জানান, তৃতীয় বা চতুর্থ দিনের বৃষ্টিপাত যদি ১০মিলি মিটারের বেশি হয় তাহলে আলু ফলনে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিবে। তবে দাউদকান্দি বা চান্দিনা উপজেলা এলাকায় এমন ভারী বৃষ্টি হয়নি। আর যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে তেমন কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী জানান, সারা দেশের কথা নয়, কুমিল্লায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে আলুর সমস্যা হবে না। এখনকার সময়ের বৃষ্টি নিয়ে কৃষক কিছু বিপাকে পড়লেও এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে কোন জমিতেই পানি জমে থাকেনি। যেসব জমিতে কিছু পানি জমে ছিল সেগুলোও কৃষক যথা সময়ে সরিয়ে ফেলেছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না হলে আলুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ