মো. জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতী। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুমুর নামক স্থান থেকে উৎপন্ন নদীটি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর হয়ে দাউদকান্দির শাপটা এলাকায় গোমতী মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে নদীটির বিভিন্নস্থানে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ভেঙ্গে পড়ছে নদীর তীর। আর উত্তোলিত বালু পরিবহনে হুমকীতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এমনি অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে ভাঙ্গছে নদী তীর, সাথে এই বালু পরিবহনে আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম হুমকীতে রয়েছে।

গোমতী এক সময় খরস্রোতা নদী ছিল। বর্ষায় নদী তীরের মানুষ নদী ভাঙ্গার আশঙ্কায় পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদস্থানে সরে যেত। প্রশাসন বিনিদ্র রাত কাটাতো নদী তীরে। কালের বিবর্তনে এখন আর বর্ষায় নদী ভাঙ্গার ভয় থাকেনা। বর্তমানে জেলার বিভিন্নস্থানে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিনিয়ত নদীর চর ভেঙ্গে ফসলী জমি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তোলিত বালু এবং নদীর অভ্যন্তর থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে ড্রাম্প ট্রাক (বড় আকারের ট্রাক) দিয়ে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে সেগুলো পরিবহন করায় চরম হুমকীতে রয়েছে বাঁধের বিভিন্নস্থান। এমনি কুমিল্লার সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের কাঁচিয়াতলী এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বালিখাঁড়া এলাকার বিশাল এলাকাজুড়ে সৃষ্ট হয়েছে নদী ভাঙ্গন। এতে একদিকে নদী তীরে থাকা অসংখ্য বিভিন্নজাতের বনজ গাছের সাথে তাল, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ যেমন ভাঙ্গছে, তেমনি ফসলী জমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে।

নদী তীরের কৃষক রবিউল, কায়দে আজম, হায়দর আলী, আবু তাহের সহ অন্তত ২০/২৫ জন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাচিয়াতলি এলাকার সৈকত, সুজন, ড্রেজার দিয়ে নদীর চর থেকে মাটি ও বালু তোলার কারনে আমাদের প্রায় ১০০ শতক ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। আমরা সাধারন কৃষক। বিচার চাওয়ার আগেই প্রভাবশালী লোকদের হুঙ্কার চুপ থাকো, কোথাও কোন অভিযোগ শুনলে খবর আছে। এরপর আমাদের আরকিছু বলার থাকেনা। তারা বলেন, প্রশাসনতো বিষয়গুলো জানে, তাহলে কেন তারা বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

একইভাবে কাচিয়াতলী থেকে সংগৃহীত বালু কাঁচিয়াতলী এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে ভারী ভারী ট্রাম্প ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহনের কারণে ওইস্থানের প্রতিরক্ষাবাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা বিপদজনক হয়ে উঠেছে। এখানকার মানুষও প্রভাবশালীদের ভয়ে নিশ্চুপ। এই যখন অবস্থা তখন জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব। কৃষকদের আর্তনাদ যেমন তাদের কানে বাজেনা, তেমনি সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের যেন কোন দায়বদ্ধতা নেই।

সদর উপজেলার কাঁচিয়াতলী এলাকায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, বালু পরিবহনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষতি এবং এই বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীর ভাঙ্গার

বিষয়টি জানতে চাইলে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে প্রভাবশালী কিছু মহল মাটি/বালু কাটছে। এই বালু ও মাটি ট্রাক যোগে প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে বহনের ফলে বাঁধের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। কাঁচিয়াতলী এলাকার বিষয়টি আমি সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন জানান, গোমতী নদীতে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে বালু তোলার জন্য লীজ দেয়া হয়েছে। নদীর চর থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ, যদি কেহ এই কাজ করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত শওকতের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।