কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিচারের নামে শিক্ষক ও নারী-শিশু পেটানো সেই আলোচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে উপজেলার রাজামেহার ইউপির ওই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ তথ্য জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানার এসআই মো. ইকতিয়ার।

তিনি আরো জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুটি মামলার আসামি ওই চেয়ারম্যানকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে দুপুরের দিকে দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত-৪) আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৯ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে ওই চেয়ারম্যান একই ইউপির বেতরা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আজিজুর রহমানকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

অপর ঘটনায় একই ইউপির উখারি গ্রামের মো. ওয়ালিউল্লাহর শিশু ছেলে শরীফ (১০) এবং স্ত্রী কাজল বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিচারের নামে মারধর করেন। এ ঘটনায় কাজল বেগম বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যান ও তার ভাতিজা শামীমের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। দুটি মামলায় প্রায় তিন সপ্তাহ আত্মগোপনে ছিলেন চেয়ারম্যান।

এছাড়া ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিগত প্রায় ৯ বছরে এলাকার বিভিন্ন লোককে বিচারের নামে নির্যাতনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই ইউপির ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লার ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ও মামলার বাদী মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, দুটি মামলার আসামি হয়েও তিনি (চেয়ারম্যান) পরিষদের কাজ চালিয়ে গেছেন। আত্মগোপনে থাকা সেই চেয়ারম্যান রোববার সকালে থানার অদূরে নিউ মার্কেট এলাকায় এসে বসে থাকবে, পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করলো, আদালতে নেয়া হলো, জামিন হয়ে গেল, সবই রহস্যজনক।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: