ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে কুমিল্লার উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা উত্তর জেলার রাজনৈতিক সদর চান্দিনায় ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক নিয়মানুসারে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ইউনিয়ন-পৌরসভা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক জেলায় মাত্র ১টি উপজেলায় সম্মেলন হয়। বাকি ৬টি উপজেলায় আওয়ামীলীগ সম্মেলন হয়নি। এমনকি অনেক উপজেলার ইউনিয়ন কমিটি পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে গত ৮ নভেম্বর চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ওই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আওয়ামীলীগের সম্মেলনও সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

জেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে গত দুই মাস যাবৎ ১২টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সম্মেলন সম্পন্ন করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। বাকি ৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা সহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জেলা সম্মেলনের পর।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে কুমিল্লা উত্তর জেলার সকল উপজেলা-ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য গত ২১ অক্টোবর চিঠি প্রদান করে কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ।

ওই চিঠিতে মু. রুহুল আমিনকে আহবায়ক ও অধ্যক্ষ হুমায়ূন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি সম্মেল প্রস্তুতি কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের এমপি। তবে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হলেও বিলুপ্ত করা হয়নি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ।

আর ওই চিঠি প্রাপ্তির পর গত ৮ নভেম্বর চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্বাক্ষর করেন উত্তর জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নীতিনির্ধারকবৃন্দ। তাতেই ক্ষোভে উঠে উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে নতুন কমিটিতে কে স্বাক্ষর করবেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দাবী তারাই করবেন নতুন কমিটি। আর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবী করেন যেহেতু আমাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়নি সেহেতু আমরাই নতুন কমিটির অনুমোদন দিব। এ নিয়ে শুরু হয় দুই মুখী যুক্তি।

এমন টানা হেঁচরাতে জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে বাকি ৬টি উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত রেখে জেলা সম্মেলন নিয়ে মাথাচারা দেয় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। যেহেতু একটি ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু জেলা সম্মেলনের পর মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়া সকল উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হবে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. আব্দুল আউয়াল সরকার জানান, উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিবে জেলা কমিটি। যেহেতু জেলা কমিটি বিলুপ্ত হয়নি সেহেতু আমরাই নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়ার কথা। কিন্তু জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নিজেরাই উপজেলা সম্মেলন শুরু করেছিলেন।

যার কারণে কোন উপজেলায় আওয়ামীলীগের কমিটি করা হয়নি। চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও কমিটির অনুমোদন হয়নি এখনও। যারা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব হয়েছেন তারা মনে করেছিলেন তারাই সব করে ফেলবে। আমি তাদেরকে (উত্তর জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে) বলেছিলাম আমরা উপজেলা সম্মেলন গুলো শেষ করে দেই আপনারা জেলা সম্মেলন করেন। কিন্তু তারা আমাদের কোন কথা রাখেননি। উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি করা ছাড়াই এখন তারা জেলা সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মু. রুহুল আমিন জানান, জেলা সম্মেলনের আগেই জেলার আওতাধীন সকল উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করার কথা। তবে আমাদেরকে কেন্দ্রিয় অফিস থেকে বারণ করা হয়েছে। অপরদিকে একমাত্র চান্দিনা উপজেলা ব্যতিত সকল উপজেলার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটিগুলোও সম্পন্ন হয়নি। যারফলে জেলা সম্মেলনের পর আমরা উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন গুলো শেষ করবো।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সভাপতি হিসেবে যাদের নাম উঠে আসে তারা হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ রুহুল আমিন, এমপি সেলিমা আহমদ মেরি ও ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম উঠে আসে তারা হলেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এম. হুমায়ুন মাহমুদ, জেলা যুগ্ম সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার, এমপি রাজী ফকরুল, এমপি সেলিনা ইসলাম ও দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন।