কুমিল্লার কালিরবাজারে পারভেজ হোসেন (৩২) নামের ৫ মামলার আসামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। গত বুধবার সন্ধ্যায় জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবক স্থানীয় সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল মবিনের পুত্র।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর পুলিশ পাহারায় সীমিত লোকের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাকে সৈয়দপুর শাহাজাহান মুহুরী বাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত সন্ত্রাসী পারভেজকে ছাত্রদল নেতা দাবী করছে বিএনপি। জানাযায় মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু সহ বিএনপি নেতারা অংশ নেয়। এদিকে বৃহস্পতিবার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক দেড়শ লোকের বিরূদ্ধে মামলা করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানান, নিহত পারভেজ হোসেন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। কালিরবাজার, ময়নামতি, নিমসার এলাকা জুড়ে মহাসড়ক ভিত্তিক তার একটি নিজস্ব গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী, বুড়িচং ও চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড থানায় চুরি ছিনতাই ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনায় ৫টি মামলা রয়েছে।

এছাড়া তার বিরূদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার অপকর্মে বাঁধা দেওয়ায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার বিরোধ সৃৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। গত বুধবার সন্ধ্যায় কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। মূমূর্ষ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কমলাপুর গ্রামে আবদুল মবিনের পুত্র পারভেজ ছোটবেলা থেকেই মামার বাড়ি পাশের গ্রাম সৈয়দপুরে বড় হয়েছে। মামার বাড়িতেই বাড়ি-ঘর তৈরী করে বসবাস করত। সে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীর সাথেও তার সখ্যতা ছিল। ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে ও পরে মহাসড়কে অগ্নি সন্ত্রাসে সে জড়িত ছিল। বিগত নির্বাচনের আগে সৈয়দপুর ও কমলাপুরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর গুলি বর্ষণ ও মটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় সে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এছাড়া সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ভাড়াটিয়া হিসাবে খেটেছে অনেক জায়গায় বলে জানান ভোক্তভোগীরা।

নিহত পারভেজের মামা চাঁন মিয়া ও ভগ্নিপতি মো.সোহেল জানান, কালিবাজারের স্থানীয় একটি গ্রুপ পারভেজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। যখন ঘটনা ঘটেছে তখন এলাকার লোকজন দেখেছে কারা নির্মমভাবে পারভেজকে পিটিয়েছে। তার দু’ পা ভেঙ্গে দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে কালিরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.সেকান্দর আলী জানান, গণপিটুনীতে নিহত পারভেজ এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চিহ্নিত ডাকাতি ও অগ্নি সন্ত্রাসে জড়িত ছিল। সে সৈয়দপুরে পুলিশের উপরও হামলা করেছিল। পুলিশের খাতায়ও সে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। কয়েকটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে পুলিশ খুঁজছিল। বুধবার সন্ধ্যায় এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনীতি সে মারা গেছে। ডাকাত পারভেজ নিহতের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে।

ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহামুদুল হাছান রুবেল জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ আসর পুলিশের পাহারায় লাশ দাফন করা হয়েছে।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, প্রাথমিকভবে আমরা জানতে পেরেছি এলাকায় একটি ছিতাইকালে স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে আটক করে গণপিটুনী দেয়, পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, বুড়িচং, কোতয়ালীসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরিসহ ৫/৬টি মামলা রয়েছে। পরিবারের কেউ মামলা করতে এগিয়ে না আসায় ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহাবুব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক দেড়শ লোকের বিরূদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: