কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক যেন হালচাষ করা জমি

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত ও উন্নতকরণের কাজ চলছে ধীর্ঘ প্রায় ১ বছর ধরে। এই ধীরগতিতে কাজ চলার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও স্থানীয় মানুষদের। বিশেষ করে এই বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা যেন হালচাষ করা জমির মতো।

বিভিন্ন যায়গায় উচু নিচু খাদ, সব থেকে ভয়াবহ করুন অবস্থা হচ্ছে মুদাফরগঞ্জ থেকে নলুয়া চাঁদপুর মহাসড়ক টি। রাস্তায় কেউ পা দিতে পারে না কাদার জন্য। হাটু সমান কাদা ৩ কিলোমিটার সড়কে, ওই এলাকার মানুষরা পরেছে চরম ভোগান্তি তে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা হয়ে যায় মরনপাদ। যাত্রীরা ভয়ে অটো, সিএনজি, রিক্সা করে চলাচল করতে ভয় পায়, চুন থেকে পান খসলেই কাদার নিচে চাপা পড়বে যাত্রীরা। প্রতিদিন এই সড়কে অতিরিক্ত কাদাতে আটকা পরে শত শত বাস, ট্রাক, তিন চাক্কার গাড়ি গুলো।

এদিকে গত এক সপ্তাহের বৃষ্টির কারণে সড়কের পাশে পানি জমে আছে। বিষয়টি মোটেও আমলে নিতে চাইছে না চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ঈদুল আযহার পূর্বে সড়কের মধ্যে বাজার ও ঝুঁকিপূর্ন এলাকাগুলো সংস্কার না করলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে এসব অঞ্চলের মানুষের।

সড়ক ও জনপদ চাঁদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়কের ৫৮ কিলোমিটার জুড়ে উভয় পাশের ৩ ফিট প্রশস্তকরণ, মাটি ভরাট ও কয়েকটি ব্রিজ কালভার্টসহ উক্ত কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১শ ২৫ কোটি টাকা। সড়কটি বর্তমান ১৮ থেকে ২৪ ফিট প্রস্থে উন্নিত করার কাজ চলছে। আর তা বাস্তবায়ন হলে যানবাহন চলাচল সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের শেষ দিকে সড়কটির কাজ শুরু হলেও পথে পথে নানা বাধাঁর মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সের। বিশেষ করে সড়কের দু’পাশে বড় বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিসহ নানা জটিলতাকে উপেক্ষা করে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে দাবি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। তারপরেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলছেন আগামি ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুদাফরগঞ্জে এক স্থানীয় বলেন, কাজের ধীর গতির পাশাপাশি এসব কাজে সড়ক জনপথ বিভাগের লোকদের তদারকি কম দেখা যায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের ইচ্ছেমত কাজ করছে। রাস্তার দুই পাশে সংস্কার কাজের জন্য কাটার কারণে প্রায় সময়ই দূর্ঘটনা পড়ছে পথচারী ও যানবাহন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার দাবী জানাচ্ছি।

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী সুব্রত দত্ত এ বিষয়ে বলেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের ৫৮ কিলো জুড়ে দুই পাশের ৩ ফুট করে রাস্তা বৃদ্ধিসহ ছোট বড় ব্রিজ কালভাটের কাজ আগামি ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আর সড়ক উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে সড়কের যানবাহনসহ যাত্রীসাধারণের সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কিন্তু আমাদের এখন আর কি করণীয় আছে। এখন বর্ষা মৌসুম। তারপরেও যেখানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তা সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ