আকিবুল ইসলাম হারেছঃ কুমিল্লার চান্দিনায় বিভিন্ন বাজারে জন সাধারনের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ফুটপাত অবৈধ ভাবে দখলের হিরিক চোখে পড়েছে। মানুষ যে রাস্তা দিয়ে বাজারে প্রবেশ ও বাহির হয় সে সকল রাস্তায় অর্ধাংশের বেশির ভাগই দখল করে আছে দোকানিরা।

এছাড়াও বাজার ইজারাদাররা অতি লাভের আসায় ফুটপাতে দোকান বসিয়ে খাজনা আদায় করারও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বাকি স্থানগুলিতে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা এলোমেলো ভাবে যত্রতত্র সাঁজিয়ে রাখছে।

পথচারীদের অভিযোগ অল্প একটু জায়গা দোকান বসিয়ে ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গায় চারপায়ের কেদেরা অথবা টং দিয়ে মালামাল সাঁজিয়ে রাখছেন দোকানিরা। এছাড়াও কাঁচা মালের ব্যবসায়ীরা মূল রাস্তার দু’পাশেই মাধুর বিছিয়ে বিভিন্ন পণ্য সাঁজিয়ে বসে আছে। অন্যদিকে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা গুলো এলোমেলো ভাবে বাজারের ভিতরে রাখার ফলে হাটা-চলায় ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করছে। চলতে গেলে পেছন বা সামনে থেকে আকস্মিক ভাবে অটো রিক্সা ধাক্কা মারছে।

সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার চান্দিনা বাজার,মাধাইয়া বাজার,নবাবপুর বাজার সহ বিভিন্ন বাজারের মুল রাস্তা গুলোতে সর্বসাধারনের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থানে ঐসকল স্থাপনায় দোকানের বিভিন্ন পন্য রেখে বিক্রয় করা হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানিরা দোকানের সামনে তৈলের ড্রাম, আটা-ময়দার, চাউল, আলো-পিয়াজের বস্তা, হাঁস-মুরগী ও গবাদী পশুর খাদ্যের বস্তা সহ বিভিন্ন পণ্য রেখে জায়গা দখল করে আছে।

জানতে চাইলে চান্দিনা বাজারে পণ্য ক্রয় করতে আসা মোঃ আরফান সরকার জানান, চান্দিনা বাজারে শনিবার-মঙ্গলবার সহ কোন দিনই সহজ ভাবে ফুটপাতে চলাফেরা করা যায়না। এক দিকে এলোমেলো গাড়ীর পায়চারা অন্যদিকে ফুটপাত দখলে দোকানিদের মালামাল রাখা, ফলে বাজারে এখন আর ফুটপাতের রাস্তা গুলি আর বুঝাই যায়না। এছাড়াও বড়-বড় ট্রাক গুলি পণ্য বুঝায় করে দিনের বেলায় রাস্তার মধ্যে রেখে মালামাল উঠানামা করায় অথচ রাতের বেলায় ঐসকল পণ্য নামানো অতি সহজ হতো।

বাগুর এলাকার গৃহিণী লাবণী আক্তার, ফরিদা বেগম ও মমতাজ বানু অভিযোগ করেন, এমনিতেই রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত। ভ্যান, নছিমন আর মোটরসাইকেল রাস্তার ওপরই রাখা থাকে। ফুটপাত দিয়েও হাঁটার উপায় নেই। ফুটপাতগুলো দোকানিরা দখল করে রেখেছেন। চলাচলে দারুণ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ফুটপাত দূরে থাক,মাছ বাজার এলাকায় সকালে রাস্তা দিয়েও হাঁটা যায় না।তিনি অভিযোগ করেন,পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীর স্বার্থ না দেখে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখে। তাই দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না।

ফুটপাত দখল করে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানো অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা তারা বলেন, দোকানের জায়গা সীমিত। তাই বাধ্য হয়েই দোকানের সামনের ফুটপাতে তারা মালামাল রাখেন। তবে তারা স্বীকার করেন, এভাবে ফুটপাত আটকে রাখাটা তাদের ঠিক হচ্ছে না।

ফল বিক্রেতা রিয়াজুল ও জাহিদ শেখ বলেন,পৌর কর্তৃপক্ষ যখন তাদের সরে যেতে বলে তখনই তারা সরে যান। তারপর আবার বসেন। জীবিকার তাগিদেই এ কাজ করেন বলে জানান এ দুই ফল বিক্রেতা।

পথচারী মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, বাজারের রাস্তার ড্রেন সহ সব স্থানে এখন দোকান আর দোকান, অথচ প্রত্যেক কাঁচামাল ও দোকানীদের জন্য পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত স্থান দেওয়ার কথা থাকলেও দোকানির যেখানে সেখানে পণ্য সাঁজিয়ে জনসাধারণের চলাচলের ব্যহৃত রাস্তায় বি‌ঘ্ন সৃষ্টি করছে। এব্যাপারে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে চান্দিনা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ এরশাদ আলী ভুঁইয়া জানান, ফুটপাত দখলকারী দোকানিদের বারবার নিষেধ করার পরও তারা তা মানছেনা। তাদের কে নিয়ে কয়েক বার-ই বাজার পরিচালনা অফিসে বসা হয়েছে, কিন্তু তারা আশ্বাস দিলেও ফুটপাইত পণ্য সামগ্রী রাখছে। এ বিষয়ে চান্দিনা পৌর মেয়র কে একাধিকার অবহিত করলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও বাজার ইজারাদারদের কে বারবার নির্দেশনা দিলেও তারা অতি লাভের আসায় ফুটপাতে দোকান বসিয়ে খাজনা আদায় করছে।

এ বিষয়ে চান্দিনা পৌরসভা মেয়র মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে মাইকিং করে ফুটপাতে বসা দোকানিদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিই। ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এক-দুই মাস পরপরই অবৈধ দোকান উচ্ছেদও করি। এটি আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। জনগণের অসুবিধা করে আমরা কোনোভাবেই ফুটপাত দখল করে রাখতে দেব না। খুব শিগগিরই আবার আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করব।