তিতাসে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের গাড়ীতে হামলা

হালিম সৈকতঃ কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম সোহেল সিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়ীতে হামলা ও এলোপাতিরা গুলি বর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার জিয়ারকান্দি গোমতী ব্রিজের উত্তর পাশে।
সন্ত্রাসীদের ইটপাটকেল ও এলোপাতারী গুলিতে গাড়িটি ঝাঝড়া হয়ে যায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা যায়।

সরজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার ৬টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার থেকে ফেরার পথে জিয়ারকান্দি গোমতী ব্রীজের উত্তর পাশে পৌছামাত্র পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সোহেল শিকদারের গাড়ীর গতি রোধ করার চেষ্টা করে। ড্রাইভার গাড়ীর গতি বৃদ্ধি করে সামনে এগুতে থাকলে সন্ত্রাসীরা এলোপাতারী গুলি বর্ষণ শুরু করে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। আতঙ্কে মানুষ ছুটোছুটি করতে শুরু করে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। সন্ত্রাসীদের এলোপাতারী গুলি ও ইট পাটকেলের আঘাতে ঢাকা মেট্রো-গ, ৩২-৯২৩৩ প্রাইভেটকারটি ঝাঝড়া হয়ে যায়।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল শিকদারের উপড় সন্ত্রাসী হামলার খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পরে পুরো তিতাস উপজেলাসহ আশ-পাশের উপজেলায়। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা তাকে দেখার জন্য ছুটে আসেন তিতাস উপজেলার গাজীপুরস্থ বাসভবনে। ফেসবুকে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খিরা।

তারা জানায়, সোহেল শিকদারের উপড় সন্ত্রাসী হামলা এটা নতুন কিছু নয়। এরপূর্বেও মজিদপুর একটি অনুষ্ঠানে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলো সন্ত্রাসীরা। তিতাস উপজেলায় একমাত্র আওয়ামীলীগের মনোনীত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় স্বাধীনতা বিরোধী একটা প্রভাবশালী কুচক্রী মহল নানাহ অপতৎপরতা এবং মিথ্যা মামলাসহ ঘোর ষড়যন্ত্র করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

তিতাস উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত আলী বলেন, সন্ত্রাসীরা তিতাসকে একটি অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ আ’লীগ তিতাস উপজেলা কখনোই তা হতে দেবে না। তিতাস উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদারের এই হামলার নিন্দা জানাই এবং আমি প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

তিতাস উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসীন ভূইয়া বলেন, আমি এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। তিতাস উপজেলা আ’লীগ হামলা-মামলায় বিশ্বাসী নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনোই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেন নি এবং ভবিষ্যতেও দিবেন না।

উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু বলেন, সন্ত্রাসীদের স্থান তিতাসের মাটিতে হবে না।
আমি এই হামলার সাথে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার হন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিতাস উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ বলেন, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের উপর যারা বর্বরোচিত হামলা করেছে তারা নামদারী আ’লীগ। আ’লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা বিভিন্ন অপ-কর্ম করে যাচ্ছে। তাদের কঠোর শাস্তি দাবী করছি তিতাস উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে। তিতাস উপজেলা যুবলীগ এই হামলার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছে।

এ বিষয়ে তিতাস থানা অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুল আলম টিপু বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের উপড় সন্ত্রাসী ঘটনাটি শুনেছি এবং আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।