ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় শিক্ষা অফিস কর্তৃক উন্নয়নের বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন খাতের টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ১৪৯টি এবং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার ৯৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটার হাজিরা মেশিন ক্রয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বরাদ্ধের ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগে গত ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট বুড়িচং উপজেলার জয়নাল আবেদীন অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের শিক্ষা অধিদপ্তর কতৃক ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেনটিনেন্স, স্লিপ কার্যক্রম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর জন্য লিখন শিখানো কার্যক্রম বাবদ বরাদ্ধকৃত অর্থ ৩০শে জুন ২০১৯ইং সালে উত্তোলন করেন স্ব-স্ব উপজেলার শিক্ষা অফিসারের একাউন্টে বরাদ্ধকৃত অর্থ ট্রান্সফার করে। পরবর্তীতে বুড়িচং উপজেলার ১৪৯টি এবং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার ৯৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ভূয়া বিল ভাউচার সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষকের সহযোগীতায় টাকা উত্তোলন করে।

ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম মুন্সী ও সহকারী শিক্ষা অফিসার হালিমা খাতুন এবং বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশন আরা বেগম ও শিক্ষক নেতা বুড়িচং আর্দশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসান এবং শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শেফালী বেগমের যোগসাজসে বিভিন্ন অবৈধ ও ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কোটি টাকা বরাদ্ধের অধিকাংশ টাকাই আত্মসাৎ করেছে।

সরেজমিন বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত,রুটিন মেইনটিনেন্স, স্লিপ কার্যক্রম ও প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর জন্য লিখন শিখানো কার্যক্রম বাবদ বুড়িচং উপজেলার ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার ৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিভিন্ন মোটা অংকের বরাদ্ধ অনুমোদন করা হয়।

উক্ত অনুমোদিত টাকা উত্তোলন করে শিক্ষা অফিসার নিজের একাউন্টে হস্তান্তর করে রেখে নিজ ইচ্ছায় পরবর্তীতে স্কুল কমিটি এবং প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী টাকা বরাদ্ধপত্র প্রদান করে নিজেরাই হাতিয়ে নেন কোটি টাকা।

বুড়িচং-ব্রাহ্মনপাড়া বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা খরচের শিক্ষা অফিস কর্তৃক বিভিন্ন খেলনার দ্রব্যাদি খরিদ করে। এতেও অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় ২০ হাজার টাকা প্রতিটি বায়োমেট্রিক হাজির মেশিন ক্রয় করা হয়। উক্ত মেশিনটি কান্দিরপাড়ের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হয়। উক্ত যন্ত্রটি অত্যান্ত নিন্মমানের। ১ বছরের গ্যারান্টি দেওয়া হলেও অধিকাংশ মেশিনই অচল। একের অধিকবার চাপ প্রদান করলে মেশিনটি সচল হয়। কোথাও আবার অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রকৃত ভাবে উক্ত মেশিনটির অনুসন্ধানে এবং ওয়েব সাইটে তার মূল্য তালিকা থেকে জানা যায় তার প্রকৃত মূল্য ৪ হাজার ৮শত টাকা।

ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারীর মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার সেলিম মুন্সি টাইমস্কেল, ছুটি, পেনশনে যাওয়া শিক্ষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে এবং বিভিন্ন অংকের টাকা দাবী করে থাকে। তার দাবীকৃত টাকা প্রদান না করলে মাসের পর মাস উপজেলা অফিসে ঘুরতে হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা অফিসাদেরকে স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারী বাসায় অবস্থান করার কথা থাকলেও তারা নিজেদের ইচ্ছে মতো জেলা সদরে অবস্থান করেন এবং ইচ্ছে মতো আসা-যাওয়া করার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা কির্ন্ডারগার্টেন ও প্রাইভেট স্কুল গুলোতে ঝুঁকে পড়েছে।

বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বেগম নিজেই ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বেগমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি এই বিষযে কোন প্রকার তথ্য দিতে পারব না।

এই বিষয়ে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের বরাদ্ধকৃত টাকার আয়-ব্যয় হিসাব উপজেলা শিক্ষা অফিসারে দায়িত্বে রয়েছে এবং এছাড়া দুর্নীতির বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের হাতে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান এই বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।