মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুকে হত্যার ঘটনা সাজিয়ে প্রতিপক্ষ তিনটি পরিবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ দিয়ে গ্রাম ছাড়া করে তাদের বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। লাশের সুরতহাল রির্পোটে মুরাদনগর থানা পুলিশ আঘাত ও ক্ষত কোন চিহ্ন না পেলেও এ ঘটনায় হত্যা মামলা হওয়ায় এ নিয়ে এলাকায় চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম আতঙ্কে পালিয়ে দিনাতিপাত করছে ভূক্তভোগী পরিবারগুলো।

শনিবার সকালে মুরাদনগর প্রেসক্লাবে এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবাররা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের আব্দুল মালেক সরকার, ছেলে নাজমুল হাসান ছাইম, আব্দুল খালেক সরকার অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার পালাসুতা গ্রামের মৃত কেরামত আলীর সরকারের ছেলে আব্দুল বারেক সরকার ও তার ভাই আব্দুল মালেক সরকারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। গত ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) আব্দুল বারেক সরকারের ২য় স্ত্রী শারমিন আক্তার(৩৫) ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পর দিন ১৩ মার্চ (বুধবার) দুপুর ২ টা ৪৫ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে শারমিনের সৎ ছেলে মনির তাকে কুমিল্লা হাসপাতালে না নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে শারমিনকে নিজ বাড়ীতে না রেখে পাশের বাড়ির মৃত মনু মিয়ার ছেলে আসাদ মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সন্ধ্যা ৭ টায় তার মৃত্যু হয়। পরে শারমিনের সৎ ছেলে মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ মার্চ মুরাদনগর থানায় আমাদের তিনটি পরিবারের ৮ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। লাশের সুরতহাল রির্পোটে মুরাদনগর থানা পুলিশ আঘাত ও ক্ষত না পেলেও এ ঘটনায় হত্যা মামলা হওয়ায়। মনিরসহ একই গ্রামের আবুবক্কর সালাফীর সহযোগীতায় তার দলবল নিয়ে আমাদের তিনটি পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করে ৪টি বসত ঘরের সকল মালামাল লুট করে গোয়াল ঘরে থাকা ৪টি উন্নত প্রজাতির গরু নিয়ে যায় এবং বাড়ীর পাশের প্রায় ৭০টি বিভিন্ন প্রকারের গাছ কেটে নিয়ে যায়। হয়রানী মুলক এই অভিযোগ দিয়ে মনির ঐ বিরোধপূর্ন জমি উদ্ধার ও মোটা অংকের টাকা পাওয়ার আশায় ডায়রিয়া মৃত্যু ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে কাল্পনিক একটি হত্যা ঘটনার সৃষ্টি করে হয়রানীমূলক ভিক্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। এরকম মিথ্যা মামলার তিব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে অধিকতর তন্দন্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শারমিন আক্তার গত ১২ মার্চ মাথা ব্যাথা, বমি ও হেডেক উইথ বুমিটিং (ডায়রিয়া) সমস্যায় এখানে ভর্তি হয়েছিল। ১৩ মার্চ দুপুর ২ টা ৪৫ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

বাদী মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোক্তদের সাথে পূর্বের মারধরের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পরলে আমার ছোট মা শারমিন আক্তারকে দেবিদ্বার হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং সেখানে নেওয়ার সময় মায়ের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম মনজুর আলম বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। বাড়ী-ঘরে লুটপাটের বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।