সম্পর্ক বা বিভিন্ন ধরনের স্বার্থের জন্য আমরা প্রায়ই আমাদের প্রিয়জনকে কোন কিছু উপহার বা দান করে থাকি। একজন ব্যক্তি চাইলে আইনের বিধান অনুসারে যে কাউকে কোন কিছু দান করতে পারেন।
আমাদের সমাজে অনেকেই সম্পত্তি দান করে থাকেন। মুসলিম শরীয়া আইনে দানকে হেবা বলা হয়ে থাকে। কাউকে সম্পত্তি দান করার জন্য কিছু নিয়ম কানুন আছে যা না মানলে উক্ত দান কার্যকর হয় না।

দান বা হেবা কি-
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী এক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এবং বিনা পণে নির্দিষ্ট বিদ্যমান কোন অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করলে এবং সেই ব্যক্তি বা তার পক্ষে হতে এই হস্তান্তর গ্ৰহণ করলে তাকে দান বলে।
অর্থাৎ দান হল বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় বিদ্যমান কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা।
কতটুকু পরিমাণ দান করা যাবে-
একজন মুসলিম ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পত্তি দান করতে পারেন।দান করার ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা অসীম।

দান কখন গ্ৰহণ করতে হবে-
দাতার জীবনকালে সে যখন দান করতে সক্ষম সে অবস্থায় অবশ্যই দান গ্ৰহণ করতে হবে।
দান গ্ৰহণের পূর্বেই গ্ৰহিতা মারা গেলে –
কোন দান সম্পাদন হবার পর এবং তা গ্ৰহণের পূর্বেই গ্ৰহিতা যদি মারা যায় তাহলে ঐ দান অবশ্যই বাতিল হবে।

দানপত্র বা হেবা দলিল কি রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক-
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে করতে হবে। অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি দানের জন্য রেজিস্ট্রেশন অবশ্যই বাধ্যতামূলক।ঐ একই ধারার বিধান অনুসারে অন্য আইনে যা কিছু থাকুন না কেন মুসলিম আইনের আওতায় হেবা দলিল করা হলে তা দান হিসেবে গণ্য হবে এবং তার রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

অস্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়-
কোন ধরণের অস্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয় তবে দাতা ও গ্রহীতা ইচ্ছে করলে তা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

মৌখিক দান কি গ্ৰহনযোগ্য-
অস্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে মৌখিক দান সম্ভব হলেও স্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ফলে মৌখিক ভাবে স্থাবর সম্পত্তি দান করা যাবে না।

মুসলিম শরীয়া আইনে হেবা-
একজন সুস্থ মুসলিম তার সমস্ত সম্পদ দান বা হেবা করতে পারেন
প্রতারণা বা অন্য কাউকে বঞ্চিত করে দান –
অনেক সময়ই দেখা যায় দাতা প্রতারনা করে অন্য কাউকে বঞ্চিত করে তার সমস্ত সম্পত্তি একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে হেবা বা দান করে থাকেন যাকে সাধারণত পক্ষপাতমূলক দান বলা হয়। যদিও দান একবার হস্তান্তর করা হলে তা বাতিল করা যায় না তবে অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে দান করা হলে তা আদালতের মাধ্যমে বাতিল হতে পারে। চুক্তি আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে জোর করে,প্রভাব খাটিয়ে বা প্রতারনা করে কোন অঙ্গীকার আদায় করা হয় তখন তা ক্ষতিগ্ৰস্থ ব্যক্তির আবেদনে বাতিল হতে পারে।

দান কি বাতিল বা প্রত্যাহার করা যেতে পারে-
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে দান বাতিল বা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

মোঃ কামাল হোসেন,
সহকারী ব্যবস্থাপক (আইন),
বিজিডিসিএল, কুমিল্লা।
ইমেইল: kamallawru@gmail.com

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: