ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা আর বৃহত্তর কুমিল্লা নেই। কিন্তু এখনো কুমিল্লাকে বৃহত্তর হিসেবেই চিনেন অনেকে। আর বৃহত্তর কুমিল্লার হয়ে ২০১৮ সালে সুনাম কুড়িয়ে অনেকে।

তাদের মধ্যে প্রধান বিচারপতি, পুলিশের আইজিপি, সেনাপ্রধান, দুদক প্রধান এবং কুমিল্লার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। তারা তিন জনই বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতিসন্তান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রাথীর বাড়িও এই জেলায়।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন:
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৪) একজন বাংলাদেশি আইনজীবী, যিনি বাংলাদেশের বর্তমান ও ২২ তম প্রধান বিচারপতি।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের, দেওভান্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ মুস্তফা আলী ও মায়ের নাম বেগম কাওসার জাহান।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের শিক্ষা জীবনের কেটেছে কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষা এবং একই কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ১৯৮০ সনে কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮১ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে জেলা বারের সনদ প্রাপ্ত হন। বিএসসি ও এলএলবি সম্পন্ন করে ১৯৮১ সালে জেলা জজ আদালতে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ১৯৯৯ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়াও তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল আফ্রিকান স্টাডিজ এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে ছয় মাসের ‘কমনওয়েলথ ইয়াং ল ইয়ার্স কোর্স’ সম্পন্ন করেন। সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে এবং এর দুই বছর পর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি একই বিভাগে স্থায়ী নিয়োগ পান। এরপর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দু’বার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

>>আরো পড়ুনঃ  সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় ২য় হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান শিহাব

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ: গত বছরের ১৮ মে বাংলাদেশ সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জেনারেল আজিজ আহমেদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করে।

জেনারেল আজিজ আহমেদ ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরে।

২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নেন আজিজ। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিজিবির ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

আজিজ আহমেদ অষ্টম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তিনি পাবর্ত্য চট্টগ্রামে জিএসও-৩ (অপারেশন), পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর, সেনাসদর প্রশিক্ষণ পরিদফতরের গ্রেড-২ এবং সেনাসদর, বেতন ও ভাতা পরিদফতরের গ্রেড-১ স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন স্কুল অব আর্টিলারি এবং স্কুল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আজিজ আহমেদ মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তার বাবা ওয়াদুদ আহমেদ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন।

>>আরো পড়ুনঃ  সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় ২য় হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান শিহাব

পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী:

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর জন্ম। বাবুরহাট হাই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেন। চাঁদপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন তিনি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বিসিএস ৮৪ ব্যাচের। ওই ব্যাচে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ আছে জাবেদ পাটওয়ারীর।

আতিকুল ইসলাম:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

আতিকুল ইসলাম পারিবারিক ঐতিহ্য, পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী নেতা এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে তিনি এগিয়ে আছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের মানুষ তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

আতিকুল ইসলাম কেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী বাছাইয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন- এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, তার ভাই তোফাজ্জল ইসলাম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় দেন। আতিকুল ইসলামের আরেক ভাই মইনুল ইসলাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান ছিলেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই বিডিআর বিদ্রোহের যে ঘটনা ঘটে, সে সময় ওই ঘটনা নিরসনে মইনুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া বিডিআর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি রাখার ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় ২য় হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান শিহাব

এজন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের এক প্রার্থী। এ কারণে দলের ভেতরে আতিকুল ইসলামের নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড শেষ পর্যন্ত আতিকুলকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। তার জন্ম কুমিল্লার তিতাস উপজেলায়।

কুবির উপাচার্য এমরান কবির:

গতবছর ৫৮ দিন উপাচার্য শূন্য থাকার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ আগামী চার বছরের জন্য এই নিয়োগ দেন।

গতবছর ৩০ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়-১ এর উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়। তার জন্মও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ: দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ১৯৪০ সালের ৮ মার্চ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আবদুল লতিফ ছিলেন স্কুলশিক্ষক।

চাঁদপুরে জন্ম হলেও ইকবাল মাহমুদের স্কুল জীবন শুরু হয় সাতক্ষীরার আশাশুনিতে। ১৯৭২ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে। অস্ট্রেলিয়ার নিউজ সাউথ ওয়ালেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ