কুমিল্লার আকাশে উড়ছে বর্ণিল নানা ঘুড়ি। এখন নগরীর বাসার ছাদে, গোমতীর পাড়ে আর গ্রামাঞ্চলে ঘুড়ির উৎসব চোখে পড়ে। করোনার প্রভাবে মানুষ অনেকটাই কর্মশূন্য। তাই বিকাল হলে ঘুড়ি নিয়ে ছুটে যান গায়ের খোলা মাঠ কিংবা ছাদের উপর। ঝিরিঝিরি বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন রঙ বেরঙের ঘুড়ি। আকাশ পানে তাকালে শুধু ঘুড়ি আর ঘুড়ি। এ যেন ঘুড়ির মেলা। এমন ঘুড়ি উড়ানোর এ চিত্র এখন জেলার সর্বত্র।

গ্রামে দেখা যায়, নানা বয়সের মানুষের হাতে ঘুড়ি। মার্কেটের বড় ছাদ, খোলা মাঠ, আর পথ প্রান্তর থেকে উড়ানো হয় এই সকল ঘুড়ি। মুক্ত আকাশে ঘুড়িগুলো উড়ে উন্মুক্ত পাখির মত। কোন কোন ঘুড়ি দূর থেকে দেখলে মনে হয় সত্যিকারের কাক, চিল বা সাপ। ঘুড়ির নামগুলোও ব্যতিক্রম। চড়কি ঘুড়ি, ঢাউস ঘুড়ি, বিমান ঘুড়ি, হেলিকপ্টার ঘুড়ি, সাইকেল ঘুড়ি, ছাতা ঘুড়ি, ঈগল ঘুড়ি, স্টার ঘুড়ি, তেলেংগা, চিলু, লণ্ঠন, ডাম, সাপ ইত্যাদি নানা রকমের ঘুড়ি উড়ছে। যদিও আঞ্চলিক ভাষায় নামগুলো আরও বিচিত্র। ২০-৩০ টাকার সাধারণ ঘুড়ি থেকে দুই হাজার টাকা দামের ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে।

প্রবীণরা জানান, একসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হতো ঘুড়ি উৎসব। এই উৎসব দেখতে ভিড় জমাতো আশেপাশের এলাকার মানুষ। এখন আর ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব চোখে পড়ে না। এবারই মানুষ খারাপ সময়টাকে আনন্দে পরিণত করতে ঘুড়ি হাতে ফিরে এসেছে শৈশবের স্মৃতি নিয়ে। ঘুড়ি শুধু দিনে নয় রাতেও ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে। রাতের বেলা কোনো কোনো ঘুড়ির সঙ্গে ব্যাটারি দিয়ে লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সাথে সেই ঘুড়িতে শব্দের ব্যবস্থা করা হয়। মাঝরাতেও ঘুড়ি উড়ে উন্মুক্ত আকাশে আলো জেলে শব্দ করে।

ক্রীড়া সংগঠক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, মানুষও পাখির মতো উড়তে চায় অসীম আকাশে। ঘুড়ি উড়িয়ে সে স্বাদ পূরণ করে। গ্রামীণ জনপদে ষাঁড়ের লড়াই ও মোরগ লড়াইয়ের মতো ঘুড়ি উড়ানোও একটি লোকজ উৎসব। সাধারণত ধান কেটে ফেলার পর খালি মাঠে যখন উত্তরের বাতাস বহে তখন ঘুড়ি উড়ানোর মৌসুম শুরু হয়। গ্রামে ফানুস, ঢাউস ঘুড়ি যখন আলো নিয়ে শব্দ তুলে উড়তে থাকে দখন গ্রামীণ জনপদে রহস্যময় পরিবেশের সৃষ্টি করে।

সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: